
সাইদুল ইসলাম, বালাগঞ্জ (সিলেট) বিশেষ প্রতিনিধি :
জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা সামনে রেখে দেশের সার কারখানাগুলোর উৎপাদন সচল রাখতে গ্যাস সরবরাহে নিয়ন্ত্রিত বণ্টন বা রেশনিং পদ্ধতি চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ ব্যবস্থার আওতায় তিনটি বড় সার কারখানায় পর্যায়ক্রমে উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে অবস্থিত শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। গত ৩ এপ্রিল দুপুর থেকে এক মাসের জন্য কারখানাটির উৎপাদন কার্যক্রম স্থগিত করা হয়।
সূত্র জানায়, গত ২৮ মার্চ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক জরুরি বৈঠকে এপ্রিল থেকে জুন—এই তিন মাস দেশের প্রধান সার উৎপাদনকারী তিনটি প্রতিষ্ঠানে গ্যাস রেশনিংয়ের মাধ্যমে উৎপাদন চালু রাখার সিদ্ধান্ত হয়।
এ পরিকল্পনার আওতায় অন্য দুটি প্রতিষ্ঠান হলো ঘোড়াশাল পলাশ ফার্টিলাইজার পিএলসি এবং কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড। এর মধ্যে এপ্রিল মাসে ঘোড়াশাল পলাশ কারখানায় গ্যাস সরবরাহ অব্যাহত রাখতে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ, শিল্প মন্ত্রণালয় এবং পেট্রোবাংলাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি—বিশেষ করে ইরান-ইসরায়েল সংঘাত—জ্বালানি সরবরাহে চাপ ও অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে। বিষয়টি বিবেচনায় রেখে দেশের সার উৎপাদন ব্যাহত না করে কীভাবে গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থাপনা করা যায়, সে বিষয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, মে ও জুন মাসে আবার ফেঞ্চুগঞ্জের শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কারখানার জেনারেল ম্যানেজার (অ্যাডমিন) সাজ্জাদুর রহমান বলেন, সরকারি সিদ্ধান্তের আলোকে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ৩ এপ্রিল থেকে কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে।