
আহসান হাবীব, গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি | আমার সকাল ২৪
১০ দলীয় ঐক্যজোট ক্ষমতায় গেলে ন্যায়-ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে বলে মন্তব্য করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, “জুলাই শহীদদের জন্য আমাদের হ্যাঁ ভোট দিয়ে তাদের ঋণ শোধ করতে হবে।”
২৪ জানুয়ারি শনিবার সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী সূতি মাহমুদ মডেল পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জেলা জামায়াতের আহবানে আয়োজিত ১০ দলীয় ঐক্যজোটের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ আহ্বান জানান তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন,
“তিস্তা-ধরলা-করতোয়াসহ দেশের মরা নদীগুলোর অবস্থান শরীরের রক্তনালীর মতো। এগুলোর মৃত্যু গোটা নর্থবেঙ্গলকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে। জোট সরকার ক্ষমতায় গেলে নদীগুলো সচল করা হবে এবং নর্থবেঙ্গলকে কৃষিভিত্তিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলা হবে।”
তিনি আরও বলেন,
“চুরির কালো টাকা ফিরিয়ে আনলে এবং যারা চুরি করছে তাদের হাত অবশ করে দিলে এই অবহেলিত উত্তরাঞ্চল সহজেই উন্নত হবে। আমরা ধর্মীয় সম্প্রীতির বাংলাদেশ চাই—যেখানে ধর্মে ধর্মে কোন সংঘাত থাকবে না।”
চাঁদাবাজি বন্ধে কড়া অবস্থান জানিয়ে তিনি বলেন,
“চাঁদাবাজি করতে দেব না। চাঁদাবাজের হাতকে কর্মের হাতে রূপান্তর করবো। তাদের ফিরিয়ে আনতে কর্মসংস্থান তৈরি করবো।”
স্বাস্থ্য শিক্ষা প্রসঙ্গে তিনি ঘোষণা দেন—
“এ জেলায় মেডিকেল কলেজ, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা হবে।”
নারীদের জন্য তিনি বলেন—
“নারীরা মায়ের জাত। তাদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।”
তিনি আরও যোগ করেন,
“আমরা মানবিক ও আলোকিত বাংলাদেশ গড়তে চাই। কোন আধিপত্যবাদ সহ্য করবো না; সকল দেশের সাথে সম্মানের সম্পর্ক গড়বো।”
সভা শুরুর আগেই গাইবান্ধা ও আশেপাশের এলাকা থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল জনসভাস্থলে এসে যুক্ত হয়। দুপুরের পর বিশাল মাঠ জনসমুদ্রে পরিণত হয়। পলাশবাড়ী পৌরশহরজুড়ে বিভিন্ন পয়েন্টে সাধারণ মানুষ মাইকের মাধ্যমে বক্তব্য শোনেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা জামায়াতের রাজনৈতিক সেক্রেটারি ও গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্লাপুর–পলাশবাড়ী) আসনের প্রার্থী অধ্যক্ষ (অব.) মাও. নজরুল ইসলাম লেবু।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন—
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাও. আবদুল হালিম
ইসলামী ছাত্রশিবির কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহ সিবগা
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন—
জেলা আমীর মো. আব্দুল করিম, ডা. আব্দুর রহিম সরকার, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুল ওয়ারেছ, অধ্যাপক মাজেদুর রহমানসহ জোটের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ।
সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা ও জেলা জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের আমীরবৃন্দ। গাইবান্ধা জেলার সাতটি উপজেলার নেতৃবৃন্দ সভায় উপস্থিত ছিলেন।