জগন্নাথপুরে ষাঁড়ের লড়াই বন্ধের দাবিতে তাওহিদী জনতার গণসমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল
শাহ্ ফুজায়েল আহমদ
নির্বাহী সম্পাদক
জগন্নাথপুর উপজেলা–এ ষাঁড়ের লড়াইসহ সকল প্রকার অনৈসলামিক কার্যক্রম বন্ধের দাবিতে তাওহিদী জনতার উদ্যোগে গণসমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১৩ এপ্রিল) বিকাল ৩টায় ‘সর্বদলীয় তাওহীদি জনতা’র ব্যানারে পৌর পয়েন্টে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল সমাবেশস্থলে এসে যোগ দিলে পুরো এলাকায় প্রতিবাদমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট আলেম মাওলানা হাজী এমদাদুল্লাহ (শায়খে কাতিয়া)। যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন মাওলানা বদরুদ্দিন আলামীন, মাওলানা সাইফুর রহমান সাজাওয়ার, ওয়ালিউল্লাহ, মাওলানা হাসমত উল্লাহ খান, হাফিজ সৈয়দ জয়নুল ইসলাম ও ইমরান আহমদ।
বক্তারা বলেন, হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর স্মৃতিধন্য এই অঞ্চলে কোনো ধরনের নিষ্ঠুরতা বা ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। তারা উল্লেখ করেন, বিনোদনের নামে পশুর লড়াই আয়োজন চরম অমানবিক ও বর্বরতার শামিল, যা ইসলামের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ নিন্দনীয়।
বক্তারা প্রশাসনের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে জগন্নাথপুরের কোথাও ষাঁড়ের লড়াই আয়োজন করা হলে তা প্রতিহত করা হবে। এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। অন্যথায় এর দায়ভার প্রশাসনকেই বহন করতে হবে বলেও সতর্ক করেন তারা। প্রয়োজনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ঘেরাওসহ কঠোর কর্মসূচি গ্রহণের ঘোষণা দেওয়া হয়।
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন কুবাজপুর টাইটেল মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা গিয়াস উদ্দিন, মাওলানা আব্দুল করিম ফারুকী, মাওলানা জমির উদ্দিন, জগন্নাথপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সানোয়ার হাসান সুনু, মাওলানা আব্দুল মুনিম কামালী, আজমল হোসেন জামি, মুফতি আকমল হোসাইন, অধ্যক্ষ তাজুল ইসলাম আলফাজ, মাওলানা আবু আইউব আনসারী, আব্দুল মান্নান, কামরুল হক, হাফিজ শামসু মিয়া সুজল, মাওলানা হাফিজ ইসমাইল, মো. মামুনুর রশীদ, মাওলানা ফখর উদ্দিন, সাংবাদিক জহিরুল ইসলাম লাল, মাসুম আহমদ, রিয়াজ রহমান, শাহ্ ফুজায়েল আহমদ, আল আমিনসহ অনেকে।
সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল পৌর শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে পুনরায় পৌর পয়েন্টে এসে শেষ হয়। সভা থেকে আন্দোলনকে আরও বেগবান করতে আগামীকাল সকাল ১০টায় পৌর পয়েন্টে অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। এ কর্মসূচি থেকেই পরবর্তী বৃহত্তর আন্দোলনের দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়।