
স্টাফ রিপোর্টার: মোঃ আবু সালেহ রিয়াজ || আমার সকাল ২৪ নোয়াখালী |
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় এক ছাত্রীকে ব্ল্যাকমেইল করে দীর্ঘ সময় ধরে ধর্ষণ ও তার সংসার ভাঙার অভিযোগে কুতুবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হোসেনকে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ছাত্রী নিজে বাদী হয়ে আদালতে মামলা দায়ের করলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালে এসএসসি পরীক্ষার সময় প্রাইভেট পড়ার সুবাদে প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হোসেনের সাথে ওই ছাত্রীর পরিচয় হয়। তখন ছাত্রীর বয়স ছিল ১৬ বছর। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৩ সালের ২৬ মার্চ দেলোয়ার হোসেন ছাত্রীকে ফুসলিয়ে একটি নির্জন কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে ভয় দেখিয়ে ছাত্রীকে দিয়ে কিছু আপত্তিকর স্বীকারোক্তি কাগজে লিখে নেন এবং গোপনে ভিডিও ধারণ করেন।
পরবর্তীতে ওই ভিডিও এবং লিখিত কাগজকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইল শুরু করেন শিক্ষক দেলোয়ার। ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে এবং বিয়ের প্রলোভনে দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন স্থানে ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করা হয়। মামলার অপর আসামি শংকর চন্দ্র মজুমদার এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সরাসরি সহযোগিতা করেছেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর পরিবার গত বছরের ডিসেম্বর মাসে তাকে অন্যত্র বিয়ে দেয়। কিন্তু অভিযুক্ত দেলোয়ার ক্ষান্ত না হয়ে ছাত্রীর স্বামীর মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করেন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া আইডি খুলে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও তার স্বামীর কাছে পাঠান। এর ফলে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ভুক্তভোগীর বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে।
বিবাহ বিচ্ছেদের পর আসামিরা পুনরায় তাকে শারীরিক সম্পর্কের জন্য চাপ দিতে থাকে এবং মোটা অংকের টাকা দাবি করে ব্ল্যাকমেইল অব্যাহত রাখে। সর্বশেষ গত ১৩ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ভুক্তভোগী ছাত্রী নোয়াখালী মহিলা কলেজে অনার্স পরীক্ষা দিতে যাওয়ার সময় আসামিরা তার পথরোধ করে কুপ্রস্তাব দেয়। এতে রাজি না হওয়ায় ভিডিও ভাইরাল করার হুমকি দেওয়া হয়।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগী ছাত্রী প্রথমে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় যোগাযোগ করলে তাকে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে বিষয়টি নিয়মিত মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয় এবং প্রধান শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে।