
মোঃ মেহেদী হাসান
চারঘাট (রাজশাহী)প্রতিনিধিঃ
রাজশাহীর চারঘাটে একজন সাংবাদিকের হাত কেটে নেওয়ার হুমকি দেওয়ার পর তাকে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করেছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। বুধবার রাত ৯টার দিকে চারঘাট উপজেলা সদরের শহীদ মিনার এলাকায় তার ওপর হামলা হয়। আহত সাংবাদিকের নাম শাহিনুর রহমান সুজন। তিনি দৈনিক দিনকাল পত্রিকার চারঘাট প্রতিনিধি।
সাংবাদিক সুজন এখন একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। হামলার ঘটনায় তিনি চারঘাট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে যাদের নাম রয়েছে তারা হলেন- চারঘাট পৌর বিএনপির ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি আলমগীর হোসেন (৪৮), সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম মনি (৪০), হৃদয় ইসলাম (২৬), আশিক ইসলাম (২৫) এবং মো. রকি (৩৪)।
এদের মধ্যে হৃদয় উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাকিরুল ইসলাম বিকুলের সহকারী এবং আশিক তার গাড়ির চালক। হামলাকবারীদের অন্যতম রকি বিএনপি না করলেও বিকুলের সঙ্গে থাকেন। রকির বাবা কামরুল ইসলাম পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। একটি অবৈধ পুকুর খনন এবং মাটি লুটের সংবাদ প্রকাশের জের ধরে হামলার ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় সাংবাদিকরা জানান, এক সপ্তাহ থেকে আলমগীর ও মনির নেতৃত্বে উপজেলার ভায়ালক্ষীপুর সরকারি মাদ্রাসায় অবৈধভাবে রাতের আঁধারে পুকুর খনন শুরু হয়। পুকুরের মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করা হচ্ছিল। মাটি বহনে ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে এলাকার সড়কগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জনদুর্ভোগ বেড়েছে। এলাকাবাসী এ ঘটনায় বাধা দিতে গেলে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা অস্ত্র নিয়ে তাদের ভয়ভীতি দেখান।
এ ঘটনায় গত বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুরে ‘রাতের আঁধারে সরকারি মাদ্রাসার মাটি লুট’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ করেন সাংবাদিক সুজন। সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি অবগত হয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাহাতুল করিম মিজান সেখানে অভিযান চালান। এ সময় সেখানে উপস্থিত বিএনপি নেতাকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে সরে যান। সহকারী কমিশনার ঘটনাস্থলে থাকা দুটি এক্সকেভেটর (মাটি খননকারী যন্ত্র) মেশিন অকেজো করেন।
অভিযান শেষে সহকারী কমিশনার রাহাতুল করিম মিজান চলে যাওয়ার পর সন্ধ্যার দিকে বিএনপি নেতা মনি সাংবাদিক সুজনকে ফোন করে অশ্লীল গালাগাল করেন। এ সময় মনি প্রাণনাশের হুমকি দেন। সুজনের হাত কেটে নেওয়ার হুমকি দেন। পরে ওই বিএনপি নেতা মনির সাথে ভয়েস রেকর্ডটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন সাংবাদিক সুজন। তিনি ভয়েস রেকর্ড প্রকাশ করে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। এরপর রাত ৯টার দিকে চারঘাট পৌরসভা সদরের শহীদ মিনার এলাকার একটি চায়ের স্টলে বসেছিলেন সাংবাদিক সুজন। এ সময় তার ওপর হামলা চালান বিএনপি নেতা মনি এবং আলমগীরের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা। তারা বাঁশের এবং কাঠের লাঠি দিয়ে সুজনকে বেধড়ক পেটান। স্থানীয়রা এগিয়ে গেলে বিএনপি নেতাকর্মীরা সেখান থেকে সরে যান। এরপর সুজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সাংবাদিক সুজন বলেন, সংবাদ প্রকাশের কারণে আমাকে টার্গেট করে হামলা করা হয়েছে। এখনো প্রাণনাশের হুমকি পাচ্ছি। আমি এবং আমার পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় আছি। থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাকিরুল ইসলাম বিকুল বলেন, সাংবাদিকের ওপর হামলা কোনোভাবেই ঠিক হয়নি। আমি এটি সমর্থন করতে পারি না। সাংবাদিকদের সাথে আমার কোনো বিরোধ নেই। আমি ঘটনার পর আহত সাংবাদিক সুজনের সাথে কথা বলেছি। হামলার সাথে যেসব নেতাকর্মী জড়িত তাদের বিরুদ্ধে দ্রুতই সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
চারঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসির উদ্দিন তুহিন জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরই ঘটনাটির তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তে ঘটনার সাথে সম্পৃক্ততার সতত্যা পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।