গৌরনদীতে মাদকের অভয়ারণ্য টরকী ‘চাতাল’ এলাকা, ধ্বংসের মুখে যুবসমাজ
নয়ন, স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল
ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক সংলগ্ন গৌরনদী উপজেলার টরকী বাসস্ট্যান্ডের দক্ষিণ পাশের ব্রিজের পূর্ব ঢাল—স্থানীয়ভাবে পরিচিত ‘চাতাল’ এলাকা—এখন মাদক কেনাবেচার প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এখানে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি ও সেবনের অভিযোগ থাকলেও প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দিন-রাত ২৪ ঘণ্টাই ওই চাতাল এলাকায় মাদকসেবী ও কারবারিদের আনাগোনা থাকে। বিভিন্ন এলাকা থেকে উঠতি বয়সের তরুণ ও বহিরাগতরা এসে জড়ো হয় সেখানে। ইয়াবা, গাঁজা ও ফেনসিডিলসহ নানা ধরনের মাদক সহজেই পাওয়া যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। মহাসড়কের পাশের অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা এটিকে ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাদকের অবাধ বিস্তারে স্থানীয় সামাজিক পরিবেশ ক্রমেই বিষিয়ে উঠছে। প্রতিনিয়ত নতুন নতুন কিশোর ও যুবক নেশায় জড়িয়ে পড়ছে। মাদকসেবীদের আনাগোনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চুরি-ছিনতাইসহ বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ডও বৃদ্ধি পেয়েছে। তাদের দাবি, পুলিশ প্রশাসনের কেউ কেউ বিষয়টি অবগত থাকলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কার্যকর অভিযান পরিচালিত হয়নি।
একজন ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “এই চাতাল এলাকাটি এখন যুবসমাজকে ধ্বংস করার কারখানায় পরিণত হয়েছে। আমাদের চোখের সামনে আমাদের সন্তানরা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, অথচ মাদক কারবারিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে।”
প্রশাসনের হস্তক্ষেপের দাবি
মাদকের এই করাল গ্রাস থেকে এলাকাকে রক্ষা করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, ওই এলাকায় নিয়মিত পুলিশি টহল জোরদার এবং মাদক ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার করা হোক।
সচেতন মহলের মতে, এখনই যদি টরকী ‘চাতাল’ এলাকার মাদক সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া না হয়, তবে গৌরনদীর সামাজিক স্থিতিশীলতা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে। এ বিষয়ে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।