
সাইদুল ইসলাম, বালাগঞ্জ (সিলেট) বিশেষ প্রতিনিধি :
দেশের প্রাচীন ও বৃহত্তম বাজারগুলোর মধ্যে ওসমানীনগরের গোয়ালাবাজার অন্যতম। বাজারের মধ্য দিয়ে সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক চলে গেলেও বর্তমানে পুরো বাজার এলাকা সিএনজি অটোরিকশার দখলে চলে গেছে। বাজারজুড়ে গড়ে উঠেছে অটোরিকশার একাধিক অবৈধ স্ট্যান্ড। ফলে গোয়ালাবাজারে প্রায়ই তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের যাত্রী এবং বাজারে আসা ক্রেতাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
গোয়ালাবাজারে রয়েছে প্রায় ১৮টি ব্যাংক, বেশ কয়েকটি বীমা কোম্পানি এবং প্রায় ৫ থেকে ৭ হাজার বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এছাড়া সিলেট বিভাগের অন্যান্য তিনটি জেলার কয়েকটি উপজেলার সাথে যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হওয়ায় প্রতিদিন আশপাশের জেলা সহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হাজার হাজার মানুষ এখানে ব্যবসা-বাণিজ্য ও পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য সমবেত হন।
কিন্তু উচ্চ আদালতের নির্দেশে মহাসড়কে নিষিদ্ধ সিএনজি অটোরিকশাগুলো অবৈধভাবে মহাসড়ক দখল করে বাজারের দুই পাশে স্ট্যান্ড করে রাখায় সড়কটি অত্যন্ত সংকুচিত হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি সড়ক দখল করে অসংখ্য ভাসমান দোকান বসার কারণে প্রতিদিন দীর্ঘ সময় ধরে যানজট লেগে থাকে গোয়ালাবাজার এলাকায়।
এর ফলে স্থানীয় ও দূরপাল্লার শত শত যানবাহন যানজটে আটকা পড়ে এবং হাজার হাজার যাত্রীকে প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়তে হয়। অন্যদিকে বাজারে আগত ক্রেতা ও বিক্রেতারাও নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।
দীর্ঘদিন ধরে এমন অব্যবস্থা চললেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্থায়ী কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। মাঝে মধ্যে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে এলে লোক দেখানো কিছু অভিযান পরিচালনা করা হলেও পরে আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায় পরিস্থিতি।
সরেজমিনে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের গোয়ালাবাজার এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সিলেট দিক থেকে বাজারে প্রবেশমুখে নিউ প্লাজা মার্কেটের সামনে মহাসড়ক দখল করে বালাগঞ্জ ও তাজপুরগামী অটোরিকশার স্ট্যান্ড গড়ে তোলা হয়েছে। এখানে প্রতিদিন শতাধিক অবৈধ সিএনজি অটোরিকশা মহাসড়কের ওপর দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।
এর বিপরীতে রাহাত ম্যানশনের সামনে মহাসড়কের প্রায় মাঝখানেই গড়ে উঠেছে ব্যাটারিচালিত টমটমের আরেকটি অবৈধ স্ট্যান্ড। এছাড়া শেরপুরের দিকে অগ্রসর হলে হাজী মার্কেটের স্বপ্ন স্টোরের সামনে খাদিমপুর-নায়াবন্দর রুটের সিএনজি স্ট্যান্ড মহাসড়কের প্রায় অর্ধেক অংশ দখল করে রেখেছে, যেখানে প্রতিদিন অর্ধশতাধিক অটোরিকশা অবস্থান করে।
বাজারের দক্ষিণাংশে স্বাদ মিষ্টি দোকানের বিপরীতে বেগমপুর-কালনিচর-কাতিয়ার রুটের সিএনজি স্ট্যান্ড এবং দক্ষিণ গোয়ালাবাজারের ফুলকলির সামনে থেকে স্কুল রোড পর্যন্ত মহাসড়ক দখল করে গড়ে উঠেছে বুরুঙ্গাবাজার স্ট্যান্ড। এই স্ট্যান্ডে প্রায় শতাধিক সিএনজি অটোরিকশা মহাসড়কের অর্ধেক জায়গা দখল করে রাখে।
এদিকে উত্তর গোয়ালাবাজার থেকে দক্ষিণ গোয়ালাবাজার পর্যন্ত পুরো বাজার এলাকায় সিএনজি অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত টমটম এবং বিভিন্ন পণ্যের ভাসমান দোকান মহাসড়ক দখল করে রেখেছে। দেখে মনে হয় মহাসড়কের এই অংশ যেন একটি অস্থায়ী অটোরিকশা ও টমটম স্ট্যান্ডে পরিণত হয়েছে।
এ বিষয়ে শেরপুর হাইওয়ে পুলিশের ওসি মো. আবু তাহের দেওয়ান বলেন, “আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে অবৈধ স্ট্যান্ড ও দোকান উচ্ছেদে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনমুন নাহার আশা বলেন, “গোয়ালাবাজার ও তাজপুর বাজারে ইতোমধ্যে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। খুব শিগগিরই স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, চালক, পুলিশ ও সংশ্লিষ্টদের নিয়ে সভা করা হবে। এরপরও যদি মহাসড়ক দখলমুক্ত না হয়, তাহলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”