
গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি, মো: হেলাল হাসান
নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার খুবজিপুর ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামে এক কৃষকের বাড়িতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে গোয়ালঘরসহ চারটি গরু ও খড়ের পালা পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের দাবি, এ ঘটনায় আনুমানিক ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি তারা অভিযোগ করছেন—এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়, বরং পরিকল্পিত অগ্নিসংযোগ।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক নাসিরউদ্দিন শ্রীপুর গ্রামের সরাফত প্রামাণিকের ছেলে। বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) গভীর রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে তার বাড়িতে হঠাৎ আগুন লাগে। আগুন দেখতে পেয়ে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে পানি ঢেলে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন এবং ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন।
খবর পেয়ে গুরুদাসপুর ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। কিন্তু ততক্ষণে গোয়ালঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায়, চারটি গরু মারা যায় এবং খড়ের পালা ভস্মীভূত হয়।
পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, এটি পরিকল্পিতভাবে আগুন দেওয়ার ঘটনা। তারা জানান, এর আগেও বাড়িটিতে দু’বার অজ্ঞাত পরিচয়ের লোকজন আগুন দেওয়ার চেষ্টা করেছে। সর্বশেষ ঘটনার সময় কৃষক নাসিরউদ্দিন শ্রম বিক্রির উদ্দেশ্যে পাশের সিংড়া উপজেলায় ছিলেন এবং তার স্ত্রী আত্মীয়ের বাড়িতে ছিলেন। তাদের দাবি—পরিবারের কেউ বাড়িতে না থাকার সুযোগেই দুর্বৃত্তরা চারদিক থেকে একযোগে আগুন দেয়।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক নাসিরউদ্দিন বলেন,
“এর আগেও আমাদের ক্ষতি করার চেষ্টা হয়েছে। গতকাল আমি বাড়িতে ছিলাম না, স্ত্রীও বাইরে ছিল। পরিকল্পনা করেই আগুন দেওয়া হয়েছে। আমার সব শেষ হয়ে গেছে।”
খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন খুবজিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম দোলন। তিনি বলেন,
“ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি অত্যন্ত অসহায় অবস্থায় পড়েছে। দ্রুত উপজেলা প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন।”
এলাকাবাসীও দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পরিবারকে জরুরি সরকারি সহায়তার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তারা।
এ বিষয়ে গুরুদাসপুর থানার ওসি (তদন্ত) মো. আকবর আলী বলেন,
“অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।”