
মোঃ মেহেদী হাসান, ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি
ফরিদপুর-২ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের রিকশা প্রতীকের প্রার্থী শাহ মো. আকরাম আলীর (ধলা হুজুর) গাড়িবহরে হামলার অভিযোগের প্রতিবাদ ও জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে ফরিদপুরের সালথায় সংবাদ সম্মেলন করেছে ১১ দলীয় জোট। রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার বাহিরদিয়া মাদ্রাসায় এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় জোটের কয়েকজন নেতাকর্মী প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে কাফনের কাপড় পরে উপস্থিত হন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে প্রার্থী শাহ মো. আকরাম আলী অভিযোগ করেন, গত ৭ ফেব্রুয়ারি গট্টি ইউনিয়নের জয়ঝাপ গ্রামে নির্বাচনী প্রচারণা শেষে বুড়িদিয়া বাজারে পৌঁছালে ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থকদের একটি মিছিল অশালীন স্লোগান দিতে থাকে এবং তার গাড়িবহর আটকে কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা চালানো হয়। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সহায়তায় তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে তিনি জানান।
তিনি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, এ ঘটনায় কর্মী-সমর্থক ও এজেন্টদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে, যা সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে শঙ্কা তৈরি করছে। জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে নেতাকর্মীদের ধৈর্য ধরে শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচনী কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন।
১১ দলীয় জোটের আহ্বায়ক মওলানা নেছারদ্দিনের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ফরিদপুর জেলা সভাপতি মওলানা আমজাদ হোসেন, উপজেলা জামায়াতের আমীর প্রফেসর আবুল ফজল মুরাদ, সাধারণ সম্পাদক তারিকুল ইসলাম, নগরকান্দা উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মুফতি মুস্তাফিজুর রহমান, রামকান্তপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আশরাফ আলী লিটু, উপজেলা এনসিপির সভাপতি সজিব আল হুসাইনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে স্থানীয় বিএনপি নেতা ও সাবেক ইউপি সদস্য ইব্রাহিম মোল্যা দাবি করেন, বুড়িদিয়া বাজারে ধানের শীষের নির্বাচনী কার্যালয়ে বৈঠক চলাকালে রিকশা প্রতীকের প্রার্থীর গাড়িবহর সেখানে আসে এবং উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি স্লোগানের কারণে উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও হামলার কোনো ঘটনা ঘটেনি।
সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবুলুর রহমান খান বলেন, উভয় পক্ষের স্লোগানকে কেন্দ্র করে বাজার এলাকায় সাময়িক উত্তেজনা দেখা দিলেও সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বর্তমানে এলাকার পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে।
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের টহল অব্যাহত রয়েছে। গাড়িবহরে হামলার বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাওয়া যায়নি; অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।