
নিউজ ডেস্ক, আমার সকাল ২৪।
মেনিনজাইটিসে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ায় অস্ট্রেলিয়ার সাবেক বিশ্বকাপজয়ী ব্যাটার ড্যামিয়েন মার্টিনকে হাসপাতালে ভর্তি করার পর কোমায় রাখা হয়েছিল। তবে স্বস্তির খবর—তিনি এখন কোমা থেকে সজাগ হয়েছেন। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, অবস্থা ইতিবাচক থাকলে খুব শিগগিরই তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) থেকে সাধারণ ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হবে।
গত সপ্তাহে অসুস্থ হয়ে গোল্ড কোস্টের একটি হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর মার্টিনের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে এবং তাকে কোমায় রাখতে হয়। তবে গত ৪৮ ঘণ্টায় তার অবস্থায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। ৫৪ বছর বয়সী এই সাবেক অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটার এখন জ্ঞান ফিরে পেয়েছেন এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছেন।
মার্টিনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সাবেক অস্ট্রেলিয়ান উইকেটকিপার-ব্যাটার অ্যাডাম গিলক্রিস্ট বলেন,
“গত দুই দিনে যা ঘটেছে, তা সত্যিই অবিশ্বাস্য। তিনি এখন কথা বলতে পারছেন এবং চিকিৎসায় দারুণভাবে সাড়া দিচ্ছেন। তার সুস্থ হয়ে ওঠার গতি এতটাই অসাধারণ যে পরিবার একে অলৌকিক বলেই মনে করছে।”
গিলক্রিস্ট আরও জানান, মার্টিনের অবস্থার যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে এবং চিকিৎসকেরা তাকে আইসিইউ থেকে অন্য ওয়ার্ডে নেওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী। তিনি বলেন,
“এটি তার দ্রুত ও শক্তিশালী পুনরুদ্ধারের প্রতিফলন। মানসিকভাবেও তিনি ভালো আছেন এবং সবার ভালোবাসা ও সমর্থনে ভীষণ আপ্লুত। যদিও এখনও কিছু চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ বাকি আছে, তবে সার্বিকভাবে পরিস্থিতি ইতিবাচক।”
ড্যামিয়েন মার্টিন ১৯৯২ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেছেন। টেস্ট ক্রিকেটে ৬৭ ম্যাচে ৪৬.৩৭ গড়ে ১৩টি সেঞ্চুরি ও ২৩টি ফিফটির সাহায্যে করেন ৪৪০৬ রান। ওয়ানডেতে ২০৮ ম্যাচে ৪০.৮০ গড়ে ৫টি সেঞ্চুরি ও ৩৭টি ফিফটি সহ সংগ্রহ করেন ৫৩৪৬ রান। চারটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ১৬২.১৬ স্ট্রাইক রেটে করেন ১২০ রান।
স্টিভ ওয়াহ ও রিকি পন্টিংয়ের অধিনায়কত্বে অস্ট্রেলিয়ান দলে তিনি ছিলেন অপরিহার্য সদস্য। তার ক্যারিয়ারের উল্লেখযোগ্য অর্জনের মধ্যে রয়েছে ১৯৯৯ ও ২০০৩ বিশ্বকাপ এবং ২০০৬ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়।