
মোঃ সোলায়মান গনি | কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি
কুড়িগ্রাম জেলায় এলপিজি গ্যাসের সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। দাম প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে, তবুও সময়মতো মিলছে না সিলিন্ডার। এতে সাধারণ ভোক্তা থেকে শুরু করে হোটেল-রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীদেরও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
জানা গেছে, জেলার প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষ বাসাবাড়ি, হোটেল-রেস্তোরাঁ ও পরিবহন খাতে এলপিজির ওপর নির্ভরশীল। দীর্ঘদিন ধরেই রান্নার প্রধান জ্বালানি হিসেবে সিলিন্ডার গ্যাস জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তবে গত ১–২ সপ্তাহ ধরে অতিরিক্ত দাম দিয়েও অনেকেই গ্যাস পাচ্ছেন না।
সরকার নির্ধারিত ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১,৩০৬ টাকা হলেও বাজারে তা ১,৬০০ থেকে ১,৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এমোহনী এলাকার বাসিন্দা মাসুদ রানা বলেন,
“গত কয়েক দিন ধরে গ্যাস সিলিন্ডারের দাম অনেক বেড়ে গেছে। কিনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে, তবুও না কিনে উপায় নেই।”
কুড়িগ্রাম পৌরসভার বাসিন্দা রতন চন্দ্র বলেন,
“শহরে থাকলেও গ্যাস সংকটের কারণে রান্নায় মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে। মাঝে মাঝে টাকা দিয়েও পাওয়া যায় না।”
সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ব্যবসায়ীরাও। শাপলা চত্বরে জান্নাত হোটেলের মালিক মুন্না বলেন,
“গ্যাসের দাম বেড়েছে, কিন্তু খাবারের দাম বাড়াতে পারছি না। ফলে ব্যবসায় লোকসান হচ্ছে।”
এ বিষয়ে শহরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও যমুনা গ্যাসের ডিলার বদরুল আহসান মামুন বলেন,
“চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম। ক্রয়মূল্য, পরিবহন খরচ ও স্বাভাবিক মুনাফা যোগ করেই সিলিন্ডার বিক্রি করছি। তাই দাম বেড়েছে।”
এদিকে অতিরিক্ত দাম ঠেকাতে মাঠে নেমেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। কুড়িগ্রাম জেলা অফিসের সহকারী পরিচালক মো. শেখ সাদী বলেন,
“আমাদের অভিযান প্রতিদিনই চলছে। নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে গ্যাস বিক্রি করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”