কুষ্টিয়ায় জাল কাগজে রেলওয়ের জলাশয় দখলের চেষ্টা, রেলওয়ের জরুরি নিষেধাজ্ঞায় ভরাট কাজ বন্ধ
রফিক বিশ্বাস, কুষ্টিয়া
কুষ্টিয়ার পোড়াদহ স্টেশনের উত্তর পাশে রেললাইনের পূর্বাংশে ময়না গাড়ি রেলগেট সংলগ্ন এলাকায় একটি প্রভাবশালী চক্র জাল কাগজ–পত্র তৈরি করে রাতের অন্ধকারে রেলওয়ের জলাশয় ভরাটের মাধ্যমে অবৈধ দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে। রেলওয়ের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দীর্ঘদিন ধরে জলাশয় ভরাটের চেষ্টা চললেও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি নির্দেশে ভরাট কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
রেলওয়ের লিখিত অভিযোগ
বাংলাদেশ রেলওয়ের ফিল্ড কানুনগো মোঃ রাজীবুজ্জামান গত ২৫ নভেম্বর মিরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, আটজন স্থানীয় ব্যক্তি—
১) মোঃ আঃ সামাদ
২) মোঃ মাসুদ
৩) মোঃ লিটন
৪) মোঃ ফরজ
৫) মোঃ জসিম
৬) আহম্মোদ
৭) মোঃ শিবলু
৮) মোঃ মামুন
অনুমতি ছাড়া ও জাল কাগজ দেখিয়ে জলাশয়ে বালি ফেলে ভরাট কাজ শুরু করেন। রেল কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধের নির্দেশ দিলেও তারা নির্দেশ অমান্য করে ভরাট অব্যাহত রাখেন।
রেলওয়ের জরুরি নিষেধাজ্ঞা
২৪ নভেম্বর পাকশী বিভাগের বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে স্মারক নং—ল্যান্ড/পাকশী/সীমানা নির্ধারণ/২০২২/৪৩৫ এর মাধ্যমে জরুরি নির্দেশ জারি করা হয়।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়—জলাশয় ও সংলগ্ন রেলভূমির রেকর্ড সংশোধন ও সীমানা নির্ধারণের কাজ চলমান। সীমানা নির্ধারণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত যেকোনো ভরাট বা স্থাপনা নির্মাণ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। নির্দেশ অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরও দায়ভার বহন করতে হবে।
নির্দেশনার কপি জেলা প্রশাসক, রেলওয়ের প্রধান ভূমি কর্মকর্তা, বিভাগীয় ব্যবস্থাপক, আরএনবি, মিরপুর ইউএনও, সহকারী কমিশনার (ভূমি), মিরপুর থানা এবং পোড়াদহ রেলওয়ে থানায় পাঠানো হয়।
জলাশয়ের অবস্থান (তফসিল)
-
মৌজা: কাটদহ (জে.এল ১১০)
-
খতিয়ান: ৪৩৯
-
সি.এস দাগ: ১৭৯, ৭৮৮ (অংশ)
-
পরিমাণ: ২৮,০০০ বর্গফুট (০.৪৬২৭ একর)
যোগসাজশ ও দখলের অভিযোগ
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, কিছু অসাধু রেলকর্মচারীর সহযোগিতা ছাড়া এমন দখল সম্ভব নয়। তারা জানান, রাতের বেলায় ডাম্পার ও ট্রাক দিয়ে মাটি ফেলা হচ্ছিল। পোড়াদহ বাজারের এক ব্যবসায়ী বলেন—রেললাইনের এত কাছে ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণ করলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে।
রেলওয়ের পশ্চিম জোনের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন—“অবৈধ দখলকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত অভিযান হবে। রেলভূমি রক্ষায় এবার কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পুলিশের অবস্থান
মিরপুর থানার ওসি জানান—“রেলওয়ের অভিযোগ পাওয়ার পরই ভরাট কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। নতুন নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত কেউ জলাশয় ভরাট করতে পারবে না।”
স্থানীয়দের দাবি
স্থানীয়রা মনে করেন, জরুরি নিষেধাজ্ঞা সাময়িক সমাধান হলেও স্থায়ী সমাধানের জন্য দ্রুত অভিযান চালানো জরুরি। তারা রেলওয়েকে
-
ঘটনাস্থল পরিদর্শন,
-
সীমানা নির্ধারণ দ্রুত সম্পন্ন করা,
-
জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ
এই তিন দাবিতে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
জনগণের দাবি—অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান শুরু হোক, রেলভূমি ও পরিবেশ রক্ষায় রেলওয়ে যেন এবার শক্ত অবস্থান বজায় রাখে।
