কুড়িগ্রামে পুলিশের অভিযানে ১০ চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার, গ্রেফতার ৯
মোঃ সোলায়মান গনি, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি |
কুড়িগ্রামে জেলা পুলিশের পৃথক অভিযানে ১০টি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার এবং চোর চক্রের ৯ জন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে এ সাফল্য অর্জন করে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কোর্ট চত্বর, নিউরন ডায়াগনস্টিক সেন্টার, সদর হাসপাতাল এলাকা ও জিয়া বাজার থেকে একাধিক মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে ১৭ জানুয়ারি হাসপাতালপাড়া এলাকার একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে একটি TVS Apache 160 সিসি মোটরসাইকেল চুরির ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়।
এ ঘটনায় কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বির সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোঃ মাসুদ রানার তত্ত্বাবধানে এসআই নওসাদ আলীসহ একটি টিম অভিযান পরিচালনা করে। তদন্তে গাজীপুরের কাশিমপুর এলাকা থেকে শাহজামাল ওরফে বাবু ও নুর ইসলামকে একটি চোরাই মোটরসাইকেলসহ আটক করা হয়।
পরবর্তীতে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লালমনিরহাট, উলিপুর, নাগেশ্বরী ও ফুলবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে মোট ১০টি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, চক্রটি দেশের বিভিন্ন জেলা ও মহানগর এলাকা থেকে মোটরসাইকেল চুরি করে কম দামে বিক্রি করত। পরে একটি সংঘবদ্ধ দল ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে সাধারণ মানুষের কাছে অধিক মূল্যে তা বিক্রি করত।
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও রাজারহাট থানায় মোট ৪টি মামলা দায়ের হয়েছে। ইতোমধ্যে গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে তিনজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলের মধ্যে দুইটির প্রকৃত মালিক শনাক্ত হওয়ায় তা সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি মোটরসাইকেলগুলোর মালিকানা যাচাই কার্যক্রম চলমান রয়েছে। যাচাই শেষে আইনগত প্রক্রিয়ায় প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে পুলিশের এ অভিযানে এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে। মোটরসাইকেল চোর চক্রের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে জেলা পুলিশ।