
মস্ত মিয়া, বিশেষ প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার বায়েক ইউনিয়নের পুটিয়া সীমান্তে চোরাই পণ্য আনার সময় বিজিবির ধাওয়ায় এক চোরাকারবারীর পা ভেঙে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রামবাসী ও বিজিবি সদস্যদের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। রোববার (৮ মার্চ) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।
বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কসবা উপজেলার পুটিয়া সীমান্ত দিয়ে খাদলা গ্রামের কয়েকজন চোরাকারবারী ভারত থেকে চোরাই পণ্য নিয়ে সীমান্ত অতিক্রম করার সময় খাদলা বিজিবি ক্যাম্পের গোয়েন্দা শাখার (এফএস) এক সদস্য তাদের ধাওয়া করেন। এ সময় এক চোরাকারবারী মাটিতে পড়ে গিয়ে গুরুতর আঘাত পান এবং তার পা ভেঙে যায়।
এ ঘটনার পর চোরাকারবারীসহ কয়েকজন গ্রামবাসী ওই বিজিবি সদস্যকে ধাওয়া করলে পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তিনি কাছাকাছি এক গ্রাম পুলিশের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে আত্মরক্ষা করেন।
পরে খাদলা বিজিবি ক্যাম্পের অন্যান্য সদস্যরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করলে গ্রামবাসীর সঙ্গে কিছু সময় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে বিজিবি সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অস্ত্র হাতে প্রস্তুতি নিলেও পরে পরিস্থিতি শান্ত হয়ে আসে। পরে ওই বিজিবি সদস্যকে উদ্ধার করে ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়।
এ বিষয়ে বায়েক ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য নাজমা বেগম জানান, বিজিবির ধাওয়ায় এক চোরাকারবারীর পা ভেঙে যাওয়ার ঘটনায় গ্রামবাসী উত্তেজিত হয়ে ওই বিজিবি সদস্যকে ধাওয়া করে। তবে কিছু সময় পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং কোনো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি।
বিজিবির ৬০ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক (সিও) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জিয়াউর রহমান বলেন, “চোরাই পণ্য নিয়ে ভারত থেকে আসার সময় বিজিবির একজন সদস্য ধাওয়া করলে একজন মাটিতে পড়ে গিয়ে পায়ে আঘাত পায়। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”