
মস্তু মিয়া, বিশেষ প্রতিনিধি | ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা–আখাউড়া) আসনের রাজনৈতিক অঙ্গনে গত কয়েকদিন ধরে সৃষ্টি হয়েছে চরম ধোঁয়াশা। বিশেষ করে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে চলমান নাটকীয়তায় সাধারণ ভোটার ও দলীয় কর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি বাড়ছে। বিষয়টি শুধু রাজনৈতিক কৌতূহলের নয়, বরং গভীর বিশ্লেষণের দাবি রাখে।
গত ৪ নভেম্বর বিএনপির কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ধানের শীষের মনোনয়ন পান জনাব মুশফিকুর রহমান। কিন্তু ২৮ ডিসেম্বর হঠাৎ করেই আলহাজ্ব কবির আহমেদ ভূঁইয়া নিজেকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী দাবি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মনোনয়নপত্র প্রকাশ করেন। এতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন দেখা দেয়—বিএনপি কি তবে মাঝপথে এসে প্রার্থী পরিবর্তন করেছে?
দলের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের একাধিক সূত্র ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি কোনোভাবেই মনোনয়ন পরিবর্তন নয়। বরং বিএনপির একটি কৌশলগত ‘ব্যাকআপ প্ল্যান’ হিসেবেই বিষয়টি দেখতে হবে।
এর পেছনে মূলত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে—
১. যাচাই-বাছাইয়ের ঝুঁকি
বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিরোধী দলের প্রার্থীদের মনোনয়ন বিভিন্ন টেকনিক্যাল কারণে বাতিল হওয়ার নজির রয়েছে। মূল প্রার্থী মুশফিকুর রহমানের মনোনয়ন যদি কোনো কারণে বাতিল হয়, সে পরিস্থিতিতে আসনটি শূন্য না রাখতে বিকল্প প্রার্থী প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
২. আইনি নিরাপত্তা বলয়
ঋণ খেলাপি, মামলাসহ বিভিন্ন অভিযোগে অনেক সময় প্রার্থিতা আটকে যায়। কবির আহমেদ ভূঁইয়ার মনোনয়ন মূলত একটি আইনি নিরাপত্তা ব্যবস্থা—যাতে ধানের শীষের প্রতিনিধি যেকোনো পরিস্থিতিতে মাঠে থাকে।
৩. চূড়ান্ত প্রত্যয়ন বনাম প্রাথমিক মনোনয়ন
মনোনয়নপত্র জমা দিলেই কেউ চূড়ান্ত প্রার্থী হন না। প্রতীক বরাদ্দের ঠিক আগে দল থেকে যাকে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে চূড়ান্তভাবে প্রত্যয়ন করা হবে, তিনিই হবেন আসল প্রার্থী। এ ক্ষেত্রে এখনো মুশফিকুর রহমানই মূল প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যারা কবির আহমেদ ভূঁইয়াকে ‘চূড়ান্ত প্রার্থী’ হিসেবে প্রচার করছেন, তারা হয় দলের অভ্যন্তরীণ কৌশলটি বুঝতে পারছেন না, অথবা আবেগের বশবর্তী হয়ে ভুল ব্যাখ্যা দিচ্ছেন।
প্রকৃত সত্য হলো—কবির আহমেদ ভূঁইয়া কোনোভাবেই ধানের শীষের চূড়ান্ত মনোনীত প্রার্থী নন। তিনি কেবল একটি জরুরি পরিস্থিতির বিকল্প প্রস্তুতি মাত্র।