
নিউজ ডেস্ক, আমার সকাল ২৪
ঢাকা, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ – পবিত্র রমজান, ঈদুল ফিতর বা বড়দিনে বিশ্বের অনেক দেশে খুচরা বাজারে দেখা যায় বিশেষ মূল্যছাড় ও অফার, কিন্তু বাংলাদেশে প্রায়ই ঠিক উল্টো চিত্র লক্ষ্য করা যায়। উৎসবের আগেই চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, চিনি, পোশাক, পশুর মাংসসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়তে শুরু করে।
বিশ্ববাজারে মধ্যপ্রাচ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলোতে উৎসব মানেই ‘ডিমান্ড স্পাইক’ কাজে লাগিয়ে বিক্রি বাড়ানো। সংযুক্ত আরব আমিরাতে রমজান উপলক্ষে বড় খুচরা চেইনগুলো—কেয়ারফোর, লুলু হাইপার মার্কেট—চাল, ডাল, তেল, খেজুর ও মুরগি-গরুর মাংসে বিশেষ ছাড় দেয়। সৌদি আরবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় রমজানের আগে বাজার তদারকি জোরদার করে, প্রয়োজনে আমদানি শুল্ক সাময়িক কমানো হয় এবং অতিরিক্ত মজুতদারদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে বড়দিনের সময় আমাজন, ওয়ালমার্ট, টার্গেটের মতো চেইনগুলো খাদ্যপণ্য থেকে ইলেকট্রনিক্স পর্যন্ত ছাড় ঘোষণা করে।
বাংলাদেশে এর উল্টো চিত্রের পেছনে মূল কারণগুলো হলো:
সরবরাহ-নির্ভরতা: চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, চিনি প্রভৃতি পণ্য বিদেশ থেকে আসে। আন্তর্জাতিক বাজারে সামান্য ওঠানামা, ডলার সংকট বা এলসি জটিলতা দাম বাড়িয়ে দেয়।
সিন্ডিকেট ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ী: পাইকারি স্তরে কয়েকটি শক্তিশালী গোষ্ঠী দামের উপর প্রভাব বিস্তার করে, ফলে প্রতিযোগিতা সীমিত থাকে।
নিয়ন্ত্রণহীন নজরদারি: উৎসবের সময় প্রশাসন অভিযান চালালেও তা প্রায়ই মৌসুমিক।
ভোক্তা সচেতনতা কম থাকা: অধিকাংশ মানুষ অতিরিক্ত দাম দিলেও লিখিত অভিযোগ করেন না, ফলে বাজারে জবাবদিহিতা তৈরি হয় না।
স্বল্পমেয়াদি লাভের মানসিকতা: ব্যবসায়ীরা দীর্ঘমেয়াদি গ্রাহক আস্থা বা ব্র্যান্ড সুনামকে স্বল্পমেয়াদি মুনাফার চেয়ে প্রাধান্য দেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বাংলাদেশেও উৎসবকালীন বাজারে স্বাভাবিক মূল্যছাড় এবং ন্যায্য প্রতিযোগিতা সম্ভব। তার জন্য প্রয়োজন:
প্রতিদিনের পাইকারি ও খুচরা দামের ডিজিটাল ড্যাশবোর্ড প্রকাশ,
কার্টেল বা সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত ও জরিমানা,
এলসি ও কাস্টমস প্রক্রিয়া সহজ করা,
ভোক্তা অভিযোগ ব্যবস্থাকে নিরাপদ ও কার্যকর করা,
ব্যবসায়ীর স্বেচ্ছায় উৎসবকালীন মূল্যছাড় কর্মসূচি।
বিশ্বায়নের যুগে তথ্য সহজে ছড়িয়ে পড়ে। দুবাই, রিয়াদ, নিউইয়র্ক বা লন্ডনে উৎসব মানে সেল—এমন তথ্য দেখা মাত্র স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, “ঢাকায় কেন নয়?”
বিশেষজ্ঞরা বলেন, উৎসব মানেই শুধু আত্মশুদ্ধি বা পারিবারিক মিলন নয়, এটি সামাজিক দায়িত্বেরও প্রতীক। বাংলাদেশে যদি সরকার, ব্যবসায়ী ও ভোক্তা একত্রে ন্যায্য বাজার-সংস্কৃতি গড়ে তোলেন, তবে উৎসবের আনন্দ পুরোপুরি ভোক্তাদের কাছে পৌঁছাতে পারে।