
মোঃ সোলায়মান গনি, উলিপুর উপজেলা প্রতিনিধি :
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার তবকপুর ইউনিয়নের খামার তবকপুর মৌজায় এক মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তির সম্পত্তি কৌশলে প্রতিবেশী কর্তৃক লিখে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, খামার তবকপুর হামির বাজার এলাকার বাসিন্দা মরহুম কমর উদ্দিন মুন্সির পুত্র আকবর আলী ব্যাপারী স্থানীয়ভাবে একজন পাট ব্যবসায়ী ছিলেন। পাট ব্যবসার মাধ্যমে তিনি আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে তবকপুর ইউনিয়নের কাজলডাঙ্গা, বরুয়া তবকপুর, তবকপুর, খামার তবকপুর ও শ্রীবল্লভ মৌজায় নিজ নামে ও পরিবারের সদস্যদের নামে কয়েক একর জমি ক্রয় করেন।
১৯৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যায় তার পাট গোডাউনে সংরক্ষিত প্রায় আড়াই হাজার মণ পাট পানিতে ডুবে সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। এতে চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন এবং পরবর্তীতে মানসিক ভারসাম্য হারান। চিকিৎসাধীন অবস্থায় কয়েক বছর পরিবারের সঙ্গে বসবাসের পর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, আকবর আলী ব্যাপারীর চিকিৎসা ও সংসার পরিচালনার প্রয়োজনে তার সম্পত্তি বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তৎকালীন তবকপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহমুদুর রহমান বকুলের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়। তার সুপারিশক্রমে কুড়িগ্রাম সিভিল সার্জনের নির্দেশে একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়।
কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের জুনিয়র কনসালটেন্ট (অর্থোপেডিক) ডা. মোঃ আলাউদ্দিন আল আজাদ, জুনিয়র কনসালটেন্ট (গাইনি) ডা. অমিত কুমার বসু ও সিনিয়র কনসালটেন্ট (মেডিসিন) ডা. মোঃ খালিদ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড আকবর আলী ব্যাপারী (৬০) কে মানসিক ভারসাম্যহীন রোগী হিসেবে ঘোষণা করেন।
আকবর আলী ব্যাপারীর ওয়ারিশদের মধ্যে তার স্ত্রী মোছাঃ জোবেদা বেগম, পুত্র সাখাওয়াত হোসেন এবং কন্যা আঁকিতারা বেগম, শাহানাজ খাতুন, শাহিদা খাতুন ও আনিচা খাতুন বর্তমানে জীবিত আছেন। উল্লেখ্য, কন্যা আনিচা খাতুন জন্মগতভাবে মানসিক ও বাকপ্রতিবন্ধী।
অভিযোগে আরও বলা হয়, আকবর আলী ব্যাপারী জীবিত থাকাকালীন সময়ে প্রতিবেশীরা তার চিকিৎসার কথা বলে বাইরে নিয়ে গিয়ে তার নামে একাধিক দলিল সম্পাদন করিয়ে নেন। যে সময় এসব দলিল করা হয়েছে, সে সময় তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় ছিলেন। এ কারণে ওয়ারিশরা সংশ্লিষ্ট দলিলসমূহ বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে খামার তবকপুর এলাকায় বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে এবং ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের ন্যায়বিচার কামনা করেছে।