
মোঃ ইনতাজ হোসেন, বান্দরবান প্রতিনিধি
বান্দরবানের সরই এলাকায় নির্মিত ১০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু হাসপাতালটি উদ্বোধনের পরও চালু না হওয়ায় স্বাস্থ্যসেবা বঞ্চিত হচ্ছেন এলাকাবাসী। কয়েক বছর আগে নির্মাণকাজ শেষ ও আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হলেও এখনো জনবল সংকট ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে হাসপাতালটি বন্ধ রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, হাসপাতাল ভবনটি তালাবদ্ধ। চারপাশ আগাছায় ভরা, ভেতরে ধুলাবালি জমে আছে। কোথাও জানালার কাচ ভাঙা, কোথাও দরজার পাল্লা নষ্ট হয়ে গেছে। দীর্ঘদিন बंद থাকায় ভবনের ক্ষয়ক্ষতি বৃদ্ধি পাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র মতে, সরকারের স্বাস্থ্য অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় হাসপাতালটি নির্মাণ করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন এবং এলাকার মা ও শিশুস্বাস্থ্যের উন্নয়ন নিয়ে নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। তবে এরপর হাসপাতালের কার্যক্রম চালুর জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স ও সহায়ক জনবল নিয়োগ করা হয়নি।
সরই একটি দুর্গম জনপদ হওয়ায় চিকিৎসাসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে স্থানীয়দের ভোগান্তি দীর্ঘদিনের। বর্তমানে প্রসূতিসহ অসুস্থ রোগীদের ২০-৩০ কিলোমিটার দূরের উপজেলা বা জেলা সদর হাসপাতালে যেতে হয়। আর্থিক সংকট, পাহাড়ি দুর্গম পথ ও যানবাহনের অভাবে অনেক ক্ষেত্রে সময়মতো চিকিৎসা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
সরই বাজারের বাসিন্দা আবদুল কাদের বলেন, “হাসপাতালটা চোখের সামনে, কিন্তু তালাবদ্ধ। অসুস্থ হলে দূরে যেতে হয়। এটা খুব কষ্টকর।”
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় ভবনটি অযত্নে নষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। একজন শিক্ষক বলেন, “কোটি টাকা খরচ করে নির্মিত সরকারি স্থাপনাটি এভাবে পড়ে থাকা জনগণের সঙ্গে অবিচার।”
এ বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, হাসপাতালটি চালুর দাবিতে তারা একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তবে চিকিৎসক-নার্স সংকট ও প্রশাসনিক অনুমোদন না আসায় কার্যক্রম শুরু হয়নি।
স্বাস্থ্য বিভাগ সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশে বিভিন্ন স্থানে জনবল সংকটের কারণে নতুন হাসপাতালগুলো চালু করতে সময় লাগছে। সরই হাসপাতালের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জাম বরাদ্দ এখনো সম্পন্ন হয়নি।
স্থানীয়দের প্রশ্ন—উদ্বোধনের আগেই কেন এসব প্রস্তুতি নেওয়া হয়নি?
এলাকাবাসী ভোগান্তি দূর করতে সরই ১০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু হাসপাতালটি দ্রুত চালুর দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, হাসপাতালটি চালু হলে মা ও নবজাতকদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমবে এবং সরকারি সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হবে।