
নিউজ (সম্পাদিত ও গোছানো):
ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠছে রাঙামাটি ও সাজেক পর্যটন কেন্দ্র। ইতোমধ্যেই কটেজ, রিসোর্ট ও হাউজবোটগুলোতে প্রায় শতভাগ বুকিং সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
পার্কটির ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, এখানে ১১টি কটেজে মোট ৩৬ জন পর্যটকের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে এবং ঈদের ছুটিতে সব কটেজই বুকিং হয়ে গেছে। তিনি বলেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার ও সম্পূর্ণ এলাকা মাদকমুক্ত রাখা তাদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। পর্যটকদের জন্য পার্কের রাইডগুলো ফ্রি এবং নৌভ্রমণে বিশেষ ছাড় দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি অসুস্থতার ক্ষেত্রে পুলিশ হাসপাতাল সেবাও প্রস্তুত রয়েছে।
কাপ্তাই হ্রদের স্বচ্ছ নীল জলরাশি ও সবুজ পাহাড়ের সৌন্দর্যে নতুন আকর্ষণ হয়ে উঠেছে হাউজবোট। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত এসব ভাসমান হোটেলে রয়েছে বেডরুম, বারান্দা ও রেস্টুরেন্ট সুবিধা। দিন-রাত উভয় সময়েই, এমনকি পূর্ণিমার আলোতেও পর্যটকরা উপভোগ করতে পারেন হ্রদের সৌন্দর্য।
হাউজবোট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম মিজান জানান, রমজানজুড়ে বুকিং কম থাকলেও ঈদ পরবর্তী ২২ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত প্রায় সব হাউজবোটই বুকড। প্রতিটি হাউজবোটে ২ দিন ১ রাতের একাধিক ট্রিপ ইতোমধ্যেই নির্ধারিত হয়েছে। প্রায় ৮টি হাউজবোট কাপ্তাই লেকে সার্ভিস দেবে, যেখানে রাতযাপনের জন্য প্রায় ২০০ এবং দিনে প্রায় ৫০০ পর্যটক ধারণক্ষমতা রয়েছে।
অন্যদিকে ‘বাংলাদেশের দার্জিলিং’ খ্যাত সাজেকেও পর্যটকদের ভিড় বাড়ছে। সেখানে চালু থাকা ১১৮টি কটেজেই প্রায় শতভাগ বুকিং হয়েছে। আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত কটেজগুলোর মধ্যে ২০টি পুনর্নির্মাণ শেষে চালু করা হয়েছে। বর্তমানে এসব কটেজে প্রায় ৩ হাজার পর্যটকের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে।
সাজেক রিসোর্ট ও কটেজ মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক রাহুল চাকমা জানান, ২২ থেকে ২৯ মার্চ পর্যন্ত সব রিসোর্ট বুকিং হয়ে গেছে। নতুন কিছু রিসোর্ট শিগগিরই চালু হবে বলেও তিনি জানান।
রাঙামাটি পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা বলেন, তাদের মোট ৮৭টি রুমের মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ বুকিং হয়ে গেছে। হঠাৎ আসা পর্যটকদের জন্য কিছু রুম খালি রাখা হয়েছে। পর্যটকদের মানসম্মত সেবা দিতে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
রাঙামাটি আবাসিক হোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও দীর্ঘ ছুটির কারণে এবার রেকর্ডসংখ্যক পর্যটক আসবে বলে তারা আশা করছেন।
এদিকে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ট্যুরিস্ট পুলিশ তিনটি দলে বিভক্ত হয়ে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন রাঙ্গামাটি রিজিয়নের পুলিশ সুপার নিহাদ আদনান তাইয়ান। কাপ্তাই হ্রদে স্পিডবোট, শহরে মোটরসাইকেল টহল এবং একটি জরুরি টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি পর্যটন নৌযানগুলোতে লাইফ জ্যাকেট ও ফাস্টএইড বক্স নিশ্চিত করতে মনিটরিং চলছে।