
ফরহাদ হোসেন রাজ
জেলা প্রতিনিধি, কিশোরগঞ্জ
কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার কেওয়ারজোড় ইউনিয়নের লাউকুড়া গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। হামলা ও মামলার ভয়ে গ্রাম ছেড়ে পালিয়েছেন অধিকাংশ পুরুষ, ফলে গ্রামটি কার্যত পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে। এতে করে নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ মার্চ ২০২৬ তারিখে পাশের হেমন্তগঞ্জ গ্রামের সজীব ও মৎস্যজীবী দলের স্থানীয় নেতা নজিরের নেতৃত্বে প্রায় ৪০০-৫০০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে লাউকুড়া গ্রামের চন্ডিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জড়ো হয়। পরে তারা কাশেম চেয়ারম্যানের বাড়িতে হামলা চালায় এবং ভাঙচুর করে। এ সময় বাড়িতে অবস্থানরত লোকজনের ওপর হামলায় অন্তত ২৫ জন আহত হন।
গুরুতর আহতদের মধ্যে দুজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, দুজনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং সাতজনকে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রভাবশালী একটি পক্ষের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। একই সঙ্গে হৃদরোগে মারা যাওয়া একজনকে হত্যা হিসেবে প্রচার করে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর চেষ্টাও চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে করে গ্রেপ্তার আতঙ্কে গ্রাম ছেড়ে পালিয়েছেন অধিকাংশ পুরুষ সদস্য।
এ পরিস্থিতিতে নারী ও শিশুদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। গর্ভবতী নারী ও বৃদ্ধরাও পড়েছেন চরম অনিশ্চয়তায়।
মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিয়াকত আলী জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় পাল্টাপাল্টি মামলা হয়েছে এবং এ পর্যন্ত ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
মৃত ব্যক্তির বিষয়ে তিনি বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি, হৃদরোগে মৃত্যুর সম্ভাবনাই বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।