হারিয়ে যাচ্ছে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী সিনেমা হল

প্রতিনিধির নাম:
  • আপলোডের সময় : Tuesday, August 25, 2026,
হারিয়ে যাচ্ছে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী সিনেমা হল
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

Ad served by Google দ্বারা বিজ্ঞাপন

আপনার পঠন অভ্যাস এবং সাইটের কনটেন্টের উপর ভিত্তি করে এই বিজ্ঞাপনটি দেখানো হচ্ছে। এটি আমাদের সাইট পরিচালনায় সহায়তা করে।
ধন্যবাদ! আমরা এই বিজ্ঞাপনটি আপনাকে আর দেখাবো না।

হারিয়ে যাচ্ছে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী সিনেমা হল

একসময় চট্টগ্রাম নগরীর বিনোদন ও সংস্কৃতির অন্যতম প্রধান কেন্দ্র ছিল সিনেমা হল। নব্বইয়ের দশকেও নগরীতে সচল ছিল প্রায় ৩৫ থেকে ৫০টি সিনেমা হল। ঈদ কিংবা ছুটির দিনে হলগুলোতে দর্শকদের উপচেপড়া ভিড় থাকত। কিন্তু সময়ের পরিবর্তন, দর্শক সংকট, পাইরেসি, মানসম্মত চলচ্চিত্রের অভাব এবং আধুনিক বিনোদনমাধ্যমের বিস্তারে একে একে বন্ধ হয়ে গেছে অধিকাংশ ঐতিহ্যবাহী প্রেক্ষাগৃহ।

চট্টগ্রামের অন্যতম প্রাচীন সিনেমা হল ‘সিনেমা প্যালেস’। ১৯২৮ সালে থিয়েটার হল হিসেবে এর যাত্রা শুরু হয়। পরে ১৯৪৩ সালে এটি পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাগৃহে রূপ নেয়। দীর্ঘ সময় ধরে চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এই হলও এখন সংকটের মুখে।

একসময় আলমাস, দিনার, উজালা, জলসা, সুগন্ধা, বনানী, গুলজার, নূপুর, মেলোডি, লায়ন, খুরশিদ মহল, রঙ্গম, সানাই, উপহার, রিদম, সাগরিকা, অলংকার, আকাশ, চাঁদনী, কর্ণফুলী, রুপালি ও পূরবীসহ অসংখ্য সিনেমা হল ছিল চট্টগ্রামে। এসব হলের অনেকগুলোই এখন আর নেই। কোথাও গড়ে উঠেছে শপিংমল, কোথাও বহুতল বাণিজ্যিক ভবন, আবার কোথাও হোটেল।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

Ad served by Google দ্বারা বিজ্ঞাপন

আপনার পঠন অভ্যাস এবং সাইটের কনটেন্টের উপর ভিত্তি করে এই বিজ্ঞাপনটি দেখানো হচ্ছে। এটি আমাদের সাইট পরিচালনায় সহায়তা করে।
ধন্যবাদ! আমরা এই বিজ্ঞাপনটি আপনাকে আর দেখাবো না।

চট্টগ্রাম সিনেমা হল মালিক সমিতির সভাপতি আবুল হোসেন বলেন, একসময় নগরীতে ৩৫ থেকে ৫০টির মতো সিনেমা হল ছিল। নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে হল ভেঙে বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের প্রবণতা শুরু হয়। বর্তমানে তিনিই শহরে দুটি সিনেমা হল পরিচালনা করছেন—সিনেমা প্যালেস ও সুগন্ধা, যা আগে ঝুমুর সিনেমা হল নামে পরিচিত ছিল।

তিনি জানান, ১৯৭০ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত ঈদে চট্টগ্রামের সিনেমা হলগুলো উৎসবমুখর হয়ে উঠত। একটি হলে ৩০ জনের বেশি কর্মচারী কাজ করতেন। দর্শকের চাপ এত বেশি ছিল যে অনেক সময় অতিরিক্ত আসনের ব্যবস্থা করতে হতো। কিন্তু সেই চিত্র এখন আর নেই।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

Ad served by Google দ্বারা বিজ্ঞাপন

আপনার পঠন অভ্যাস এবং সাইটের কনটেন্টের উপর ভিত্তি করে এই বিজ্ঞাপনটি দেখানো হচ্ছে। এটি আমাদের সাইট পরিচালনায় সহায়তা করে।
ধন্যবাদ! আমরা এই বিজ্ঞাপনটি আপনাকে আর দেখাবো না।
দুই দিনে দুই বিদায়, সৃষ্টিকর্মে থেকে যাবেন মুকুল জামিল ও সজীব দুই দিনে দুই বিদায়, সৃষ্টিকর্মে থেকে যাবেন মুকুল জামিল ও সজীব

ষাটের দশকে চালু হওয়া আলমাস ও দিনার ছিল চট্টগ্রামের জনপ্রিয় প্রেক্ষাগৃহ। নিয়মিত বাংলা ও ইংরেজি সিনেমা চলত সেখানে। নব্বইয়ের দশক পর্যন্ত ছুটির দিন কিংবা বিকেলে পরিবার নিয়ে সিনেমা দেখা ছিল মধ্যবিত্ত মানুষের অন্যতম বিনোদন। কিন্তু পাইরেসি, মানহীন চলচ্চিত্র, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও আধুনিক প্রযুক্তির অভাব ধীরে ধীরে দর্শকদের হলবিমুখ করে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয় বেসরকারি টেলিভিশন, স্যাটেলাইট চ্যানেল, ইন্টারনেট ও পরবর্তী সময়ে ওটিটি প্ল্যাটফর্মের বিস্তার। ঘরে বসেই সহজে সিনেমা দেখার সুযোগ তৈরি হওয়ায় সিঙ্গেল-স্ক্রিন হলগুলোর ব্যবসা আরও সংকুচিত হয়ে পড়ে। করোনাকালীন সংকট পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তোলে। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যায় আলমাস ও দিনার।

চট্টগ্রামের প্রথম আধুনিক মাল্টিপ্লেক্স হিসেবে ২০১৮ সালে ফিনলে স্কয়ারে ‘সিলভার স্ক্রিন’ চালু হয়েছিল। পরবর্তীতে সেটিও বন্ধ হয়ে যায়। তবে নতুন প্রজন্মের দর্শকদের কথা বিবেচনায় চকবাজারের বালি আর্কেডে স্টার সিনেপ্লেক্স যুক্ত হয়েছে। আধুনিক পরিবেশ ও ভালো চলচ্চিত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে মাল্টিপ্লেক্সগুলো বড় পর্দার প্রতি দর্শকদের আগ্রহ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে।

একসময় এক টিকিটে দুই ছবি দেখা, রোববারের ম্যাটিনি শোতে পরিবার নিয়ে সিনেমা দেখা কিংবা ঈদের দিন প্রেক্ষাগৃহে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানো ছিল চট্টগ্রামের মধ্যবিত্ত জীবনের পরিচিত চিত্র। সেই সংস্কৃতি এখন অনেকটাই স্মৃতি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরোনো সিনেমা হলগুলোকে শুধু বাণিজ্যিক স্থাপনায় রূপান্তর না করে আধুনিক সাংস্কৃতিক ও বিনোদন কমপ্লেক্স হিসেবে গড়ে তোলা যেতে পারে। মানসম্মত পরিবেশ, আধুনিক প্রযুক্তি এবং ভালো চলচ্চিত্র নিশ্চিত করা গেলে দর্শকদের বড় পর্দায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী সিনেমা হলগুলো শুধু বিনোদনের স্থান ছিল না; এগুলো ছিল নগরীর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের অংশ। তাই একের পর এক প্রেক্ষাগৃহ হারিয়ে যাওয়ার সঙ্গে হারিয়ে যাচ্ছে একটি সময়ের স্মৃতি ও নগর সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

শেয়ার করুন:

লেখাটি আপনার কেমন লাগলো?

মন্তব্য করতে সাইন-আপ বা লগইনের প্রয়োজন নেই - সরাসরি আপনার মতামত লিখুন।

একটি মন্তব্য লিখুন

আমার সকাল ২৪  ই – পেপার

এ সংক্রান্ত