
দেশজুড়ে আবারও উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে হাম রোগের সংক্রমণ। হঠাৎ আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে অন্তত ১০টি জেলায় হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। চলতি মার্চ মাসেই কমপক্ষে ২১ শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
চিকিৎসকদের মতে, টিকাদানের ঘাটতি, শিশুদের পর্যাপ্ত মাতৃদুগ্ধ না পাওয়া, কৃমিনাশক সেবনে অনীহা এবং অপুষ্টিই এই সংক্রমণ বৃদ্ধির প্রধান কারণ।
হাম বিশ্বের অন্যতম সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির নাক ও গলার মিউকাসে থাকা ভাইরাস সহজেই ছড়িয়ে পড়ে—
বিশেষজ্ঞরা জানান, লক্ষণ প্রকাশের আগেই একজন আক্রান্ত ব্যক্তি অন্যদের সংক্রমিত করতে পারেন। সাধারণত ফুসকুড়ি ওঠার ৪ দিন আগে থেকে ৪ দিন পর পর্যন্ত রোগটি সবচেয়ে বেশি ছোঁয়াচে থাকে।
ভাইরাসটি বাতাসে বা কোনো পৃষ্ঠে প্রায় ২ ঘণ্টা পর্যন্ত সক্রিয় থাকতে পারে। তাই একই ঘরে বসবাসকারী টিকা না নেওয়া প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকেন।
ভাইরাস শরীরে প্রবেশের পর দ্রুত গলা, ফুসফুস ও লিম্ফ নোডে ছড়িয়ে পড়ে। পরে এটি চোখ, রক্তনালী এমনকি মস্তিষ্কেও প্রভাব ফেলতে পারে। সাধারণত সংক্রমণের ৯–১১ দিনের মধ্যে লক্ষণ দেখা দেয়।
প্রধান লক্ষণগুলো হলো—
এ সময় মুখের ভেতরে ছোট সাদা দাগ দেখা যেতে পারে, যাকে কোপলিক স্পট বলা হয়— এটি হামের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক লক্ষণ।
৩–৪ দিনের মধ্যে কানের পেছন থেকে শুরু হয়ে মুখ, ঘাড় হয়ে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে লালচে-বাদামি ফুসকুড়ি। এটি সাধারণত ৫–৭ দিন স্থায়ী হয় এবং এ সময় জ্বর ওঠানামা করতে পারে।
সময়মতো চিকিৎসা না নিলে হামের কারণে দেখা দিতে পারে—