হাটহাজারী-নাজিরহাট সড়কে দ্রুত ডিভাইডার ও সম্প্রসারণের দাবি ভূমি প্রতিমন্ত্রীর
- আপলোডের সময় : Friday, September 11, 2026,

হাটহাজারী-নাজিরহাট সড়কে দ্রুত ডিভাইডার ও সম্প্রসারণের দাবি ভূমি প্রতিমন্ত্রীর
চট্টগ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও জনস্বার্থ সুরক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি। দেশের জানমালের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে হাটহাজারী-নাজিরহাট সড়কে দ্রুত রোড ডিভাইডার স্থাপন ও সড়ক সম্প্রসারণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ঢাকার সচিবালয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় ভূমি বরাদ্দ কমিটির ১৫৭তম সভায় তিনি এ দাবি জানান।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু এমপি। এ সময় মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় হাটহাজারী-নাজিরহাট সড়কের বর্তমান পরিস্থিতির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে ভূমি প্রতিমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রামের সঙ্গে তার আত্মিক টান ও গভীর ভালোবাসা রয়েছে। অত্যন্ত ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কে ডিভাইডার না থাকায় সম্প্রতি দুর্ঘটনায় ২৭ জনের মৃত্যু অত্যন্ত মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক।
তিনি বলেন, এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি কোনোভাবেই হতে দেওয়া যায় না। তাই জরুরি ভিত্তিতে হাটহাজারী-নাজিরহাট সড়কে ডিভাইডার স্থাপন এবং সড়কটি সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন।
সরকারি জমি বরাদ্দ ও ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনস্বার্থ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন মীর হেলাল। তিনি বলেন, বিগত আমলের অস্বচ্ছতা, অনিয়ম ও চাটুকারিতার নজির আর হতে দেওয়া হবে না। ভূমি অধিগ্রহণের প্রতিটি ধাপে পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হবে এবং জনগণ যাতে কোনো ধরনের ভোগান্তির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে।
এ ছাড়া পরিবেশের ভারসাম্য ও কৃষিজমি সুরক্ষার বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন তিনি। প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে কোনো উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যাবে না বলেও মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী।
সভায় চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য ভূমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত বেশ কয়েকটি প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) ‘চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় পাঁচলাইশ ও পশ্চিম ষোলশহর মৌজায় ১ দশমিক ৮৪০৬৪ একর এবং চন্দনপুরা, ইমামগঞ্জ, পাথরঘাটা, বাকলিয়া ও পূর্ব ষোলশহর মৌজায় ২ দশমিক ২২৮৯৮৮ একর জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।
এ ছাড়া ‘চাতুরী (চৌমুহনী)-সিইউএফএল-কর্ণফুলী ড্রাইডক (মেরিন একাডেমি)-ফকিরনীহাট (এন-১২১) জাতীয় মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ’ প্রকল্পের আওতায় কর্ণফুলী ও আনোয়ারা উপজেলার বিভিন্ন মৌজায় জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।
‘বারৈয়ারহাট-হেঁয়াকো-রামগড় আঞ্চলিক সড়ক প্রশস্তকরণ (LOC-III)’ প্রকল্পের আওতায় মিরসরাই ও ফটিকছড়ি উপজেলার বিভিন্ন মৌজায় মোট ৫৭ দশমিক ৯৩৮০ একর জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাবও অনুমোদন পেয়েছে।
সভায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বিদ্যুৎ, রেলওয়ে, সড়ক ও শিল্প খাতের আরও কয়েকটি বড় প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। এর মধ্যে নেত্রকোনা ও সুনামগঞ্জে ১৩২ কেভি ডাবল সার্কিট বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে নাজমা পেপার মিলস ও মেঘনা ইকোনমিক জোন, সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে সড়ক উন্নয়ন, টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে জয়দেবপুর-ঈশ্বরদী ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন এবং যশোরে রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (ইপিজেড) প্রতিষ্ঠার জন্য জমি অধিগ্রহণের অনুমোদন রয়েছে।
পাশাপাশি বগুড়া কোল্ড স্টোরেজ অ্যান্ড এলাইড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের অধিগ্রহণকৃত সম্পত্তি জনকল্যাণমূলক হাসপাতাল স্থাপনের কাজে ব্যবহারের অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে।



















লেখাটি আপনার কেমন লাগলো?
মন্তব্য করতে সাইন-আপ বা লগইনের প্রয়োজন নেই - সরাসরি আপনার মতামত লিখুন।