হরিপুরে ৩৬ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই, শূন্য সহকারী শিক্ষকের ৯৭ পদ
- আপলোডের সময় : Thursday, September 3, 2026,

হরিপুরে ৩৬ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই, শূন্য সহকারী শিক্ষকের ৯৭ পদ
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলায় ৩৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। পাশাপাশি সহকারী শিক্ষকের ৯৭টি পদও ফাঁকা। শিক্ষক সংকটে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক পাঠদান, অন্যদিকে প্রধান শিক্ষক না থাকায় অনেক বিদ্যালয়ে প্রশাসনিক কার্যক্রমও বিঘ্নিত হচ্ছে। এতে প্রাথমিক শিক্ষার মান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক ও সচেতন মহল।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হরিপুরের ছয়টি ইউনিয়নে মোট ১১০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ৩৬টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। এসব বিদ্যালয়ে জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ফলে নিয়মিত পাঠদানের পাশাপাশি প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তাদের বাড়তি চাপ সামলাতে হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সহকারী শিক্ষক জানান, প্রধান শিক্ষক না থাকায় অনেক বিদ্যালয়ে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ব্যাহত হচ্ছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালনকারী সহকারী শিক্ষকদের নির্দেশনা মানতেও অনেকের অনীহা রয়েছে। এতে শিক্ষকরা নিজেদের মতো করে কাজ করায় শ্রেণিকক্ষের পাঠদানেও এর প্রভাব পড়ছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১১০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনুমোদিত শিক্ষক পদের সংখ্যা ৬৮৭টি। এর মধ্যে সংরক্ষিত পদ রয়েছে ১৯টি। বর্তমানে কর্মরত শিক্ষক ৫২৫ জন। প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষক ও সংরক্ষিত পদ মিলিয়ে মোট ১৮১টি পদ শূন্য রয়েছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বকুয়া ইউনিয়নের তাঁতীহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছয় মাস ধরে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জানান, প্রশাসনিক কাজের পাশাপাশি পাঠদান করতে গিয়ে তাকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘একা দুই দিক সামলাতে হচ্ছে। একটা করতে গেলে আরেকটা ঠিকমতো করা সম্ভব হয় না।’
ভাতুরিয়া ইউনিয়নের গোপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-২ ও ভুতডাঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এ ইউনিয়নে সহকারী শিক্ষকের ১৬টি পদ ফাঁকা। ১৮টি বিদ্যালয়ের এ ইউনিয়নে অপেক্ষমাণ তালিকায় রয়েছেন মাত্র একজন শিক্ষক।
হরিপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ২০২৫ সালে মারা যাওয়ার পর থেকে পদটি শূন্য রয়েছে। বর্তমানে সহকারী শিক্ষক আনোয়ার হোসেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি জানান, বিদ্যালয়টিতে ১০৪ জন শিক্ষার্থী রয়েছে এবং দুই শিফটে পাঠদান চলছে। তবে প্রধান শিক্ষক না থাকায় প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
ডাঙ্গীপাড়া ইউনিয়নের শীতলপুর-২ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মুরাদ বকস সরকার গত তিন মাস ধরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বলেন, ‘প্রশাসনিক কাজ করতে গিয়ে ক্লাস নিতে সমস্যা হচ্ছে। দুই দিক একসঙ্গে ঠিকমতো সামলানো কঠিন।’
শিক্ষক সংকট নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরাও। বুজরুক গ্রামের অভিভাবক মহসিম বলেন, ‘এমনিতেই বাচ্চাদের পড়াশোনার উন্নতি নেই। তার ওপর শিক্ষক সংকটে মাঝেমধ্যে ক্লাস না হওয়ার কথাও শোনা যায়। শিক্ষক সংকটে ঠিকমতো পড়াশোনা হয় না। তাই বাচ্চাদের কিন্ডারগার্টেনে ভর্তি করিয়েছি।’
অভিভাবকদের অভিযোগ, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট দীর্ঘদিনের হলেও স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। এতে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের ধারাবাহিকতা ব্যাহত হচ্ছে এবং অনেক অভিভাবক সন্তানদের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি করছেন।
হরিপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ বলেন, ‘শূন্য পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে। এরই মধ্যে সরাসরি নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদগুলো অচিরেই পূরণ হবে।’











লেখাটি আপনার কেমন লাগলো?
মন্তব্য করতে সাইন-আপ বা লগইনের প্রয়োজন নেই - সরাসরি আপনার মতামত লিখুন।