
মোঃ জুনাইদ মিয়া
জেলা প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার | আমার সকাল-২৪.কম
মৌলভীবাজারের রাজনগরে স্ত্রীকে হত্যার পর মরদেহ বাড়ির উঠানে মাটিচাপা দিয়ে নিখোঁজের নাটক সাজানোর অভিযোগে স্বামী আলমগীরকে আটক করেছে পুলিশ। প্রায় ১৮ দিন পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাড়ির উঠান থেকে গৃহবধূ জায়েদা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, ঘটনার পর সন্দেহ এড়াতে আলমগীর নিজেই রাজনগর থানায় গিয়ে স্ত্রী নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। তবে তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে অভিযুক্তের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) নোবেল চাকমা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আবুল খায়ের এবং রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল শিকদারের উপস্থিতিতে রাজনগর থানা পুলিশ উপজেলার মুন্সিবাজার ইউনিয়নের করিমপুর গ্রামের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে আলমগীরের বাড়ির উঠানে খননকাজ পরিচালনা করে। পরে সেখান থেকে জায়েদা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনাস্থলেই সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিক কলহের জেরে প্রায় ১৮ দিন আগে আলমগীর তার স্ত্রী জায়েদা বেগমকে হত্যা করেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। পরে অপরাধ গোপনের উদ্দেশ্যে বাড়ির উঠানেই মরদেহ মাটিচাপা দিয়ে রাখেন এবং এলাকায় স্ত্রী নিখোঁজ হওয়ার কথা প্রচার করেন। দীর্ঘদিন কোনো খোঁজ না পেয়ে নিহতের স্বজনরা বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করলে তদন্তের গতি বাড়ায় পুলিশ।
মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে শত শত উৎসুক মানুষ ভিড় করেন। এ সময় স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত আলমগীরকে আটক করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত ছিলেন কি না, সে বিষয়টিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে পারিবারিক কলহের জেরে হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে চূড়ান্ত মন্তব্য করতে রাজি হয়নি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
নিহত জায়েদা বেগমের পরিবার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দ্রুত বিচার এবং দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছে।