সিটিটিসির সাবেক প্রধান আসাদুজ্জামান ও এডিসি ইশতিয়াকসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন
গাজীপুর মহানগরের চত্বর এলাকার ইবনে মাসউদ মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবুল হোসেন আল আমিনকে ২০২৩ সালের ৩০ জানুয়ারি ডিবি পুলিশের পরিচয়ে তুলে নেওয়ার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, আটকের পর নির্যাতনের একপর্যায়ে তার মৃত্যু হলে মরদেহ ধলেশ্বরী নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৩ সালের ২৮ জানুয়ারি দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের সূত্র ধরে তৎকালীন সিটিটিসির অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) ইশতিয়াক আহমেদের নেতৃত্বে একটি দল ৩০ জানুয়ারি গাজীপুরের ইবনে মাসউদ মাদ্রাসা থেকে আবুল হোসেন আল আমিনকে আটক করে নিয়ে যায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরে রাজধানীর মিন্টো রোডে সিটিটিসি কার্যালয়ে তাকে দীর্ঘ সময় শারীরিক নির্যাতন করা হয়। এতে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তদন্তে আরও বলা হয়েছে, মৃত্যুর বিষয়টি গোপন করতে কেরানীগঞ্জের তুলসীখালী সেতু থেকে তার মরদেহ ধলেশ্বরী নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে তদন্ত সংস্থা। প্রতিবেদনে তৎকালীন সিটিটিসি প্রধান আসাদুজ্জামান, এডিসি ইশতিয়াক আহমেদ, তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক আসাদুজ্জামান মিয়াসহ মোট পাঁচজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য বা আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপ এখনো জানা যায়নি।