
স্টাফ রিপোর্টার, রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী): পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলা শ্রমিক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ফিরোজ মুন্সির বিরুদ্ধে আবারও অভিযোগ উঠেছে। এবার জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি করে জমি বুঝিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে এক কৃষকের কাছ থেকে ৩২ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার ও সহযোগীদের বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (৩ জুন) এ সংক্রান্ত একটি অডিও রেকর্ড এবং ভুক্তভোগীর বক্তব্যসংবলিত ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
এর আগে গত ১১ এপ্রিল সদর ইউনিয়নের সামুদাবাদ গ্রামে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার ছেলের বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলা ও স্বজনদের মারধরের অভিযোগে আলোচনায় আসেন ফিরোজ মুন্সি। ওই ঘটনায় ৫০ হাজার টাকা চাঁদা না পেয়ে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছিল তার বিরুদ্ধে। যদিও সে সময় তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন।
সর্বশেষ ভাইরাল হওয়া অডিও ক্লিপে জমিজমা বিরোধে সালিশের নামে অর্থ লেনদেনের বিষয়টি সামনে আসে। অভিযোগ অনুযায়ী, রাঙ্গাবালী ইউনিয়নের সামুদাবাদ গ্রামের কৃষক কালাম ফকিরের জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি করে জমি বুঝিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন ফিরোজ মুন্সিসহ কয়েকজন। এ জন্য খরচ বাবদ ৩২ হাজার টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অডিওতে কালাম ফকিরের ছেলে সেকান্তার ফকির ও ফিরোজ মুন্সির কথোপকথন শোনা যায়। সেখানে সেকান্তার ৩২ হাজার টাকা দেওয়ার কথা উল্লেখ করলেও ফিরোজ মুন্সি ৩০ হাজার টাকা নেওয়ার কথা বলেন। বাকি দুই হাজার টাকা শুকুর নামের এক ব্যক্তি নিয়েছেন বলেও কথোপকথনে উঠে আসে।
অডিওতে সেকান্তার টাকা ফেরত চাইলে ফিরোজ মুন্সিকে বলতে শোনা যায়, “দুলাল মুন্সি, ইউসুফ, শুকুরকে ফোন দিয়েছি। আমি বেঁচে থাকলে তোর একটা টাকাও যাবে না। আমাকে বিকাশে যে ছয় হাজার পাঠিয়েছো, সেটা আপাতত নে। আর ভেঙে না নিলে পাঁচটা দিন সময় দে।”
একপর্যায়ে সেকান্তার দাবি করেন, জমির বিষয়টি নিয়ে তাদের আরও প্রায় ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে এবং দ্রুত টাকা ফেরত চান। জবাবে ফিরোজ মুন্সি আরও পাঁচ দিন সময় চান।
ভুক্তভোগী কৃষক কালাম ফকির বলেন, “আমার কওলা (কবলা) সম্পত্তি বুঝে না পাওয়ায় তাদের কাছে গিয়েছিলাম। আমাদের এসএ ও বিএস রেকর্ডসহ দলিলপত্র সবই আমাদের নামে রয়েছে। তারা জমির ফয়সালা করে দেওয়ার কথা বলে ৩২ হাজার টাকা নেয়। কিন্তু জমির সমস্যার সমাধানও করেনি, টাকাও ফেরত দিচ্ছে না।”
কালাম ফকিরের ছেলে সেকান্তার ফকির বলেন, “ফিরোজ মুন্সি ও ইউসুফ মাতুব্বর আমার কাছ থেকে টাকা নিয়েছে। তারা জমি বুঝিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিল। ৩২ হাজার টাকার পাশাপাশি যাতায়াত, গাড়ি ভাড়া, তেল ও আপ্যায়ন বাবদ আমাদের আরও প্রায় ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগে নাম আসা দুলাল মুন্সি বিএনপি এবং ইউসুফ মাতুব্বর ও শুকুর যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা শ্রমিক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ফিরোজ মুন্সি বলেন, “আমি একটি অনুষ্ঠানে আছি। পরে সাক্ষাতে বিষয়টি বলবো।”
অপর অভিযুক্ত ইউসুফ মাতুব্বর বলেন, “আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। এখন শুনছি ফিরোজ ও শুকুরকে নাকি টাকা দেওয়া হয়েছে।”
এ বিষয়ে উপজেলা শ্রমিক দলের আহ্বায়ক জুয়েল হাওলাদার বলেন, “কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত অন্যায় বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের দায় দল বহন করবে না। ব্যক্তি তার নিজ কর্মের জন্য নিজেই দায়ী। দলের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রাখতে ব্যক্তির ভুলকে দলের সঙ্গে না জড়ানোর আহ্বান জানাই।”