সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের অপচেষ্টা ঠেকাতে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
- আপলোডের সময় : Thursday, September 3, 2026,

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের অপচেষ্টা ঠেকাতে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
নিজস্ব প্রতিবেদক
সমাজবিরোধী অপশক্তি যাতে আর মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে এবং দেশের বিরাজমান সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি কেউ যাতে বিনষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে দেশবাসীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বী বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং পুরোহিত ও সেবাইতদের সম্মানী প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে আবহমানকাল ধরে দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বজায় রেখে নিজ নিজ ধর্ম ও সংস্কৃতি পালন করে আসছে। তবে সময়ে সময়ে ‘কংস’ চরিত্রের কিছু মানুষ রাষ্ট্র ও সমাজে বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টা চালিয়েছে।
তিনি বলেন, গণতন্ত্রকামী জনগণের অধিকার কেড়ে নিয়ে দীর্ঘ সময় একটি নিষ্ঠুর শাসন জনগণের ওপর চেপে বসেছিল। দেড় দশকের বেশি সময় পর দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ হাজারো প্রাণের বিনিময়ে সেই ‘কংসরূপী’ ফ্যাসিস্টদের পতন ঘটিয়েছে। বাংলাদেশে আবারও গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়েছে। এখন ভঙ্গুর অর্থনীতি, বিভাজিত প্রশাসন ও অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির মাধ্যমে দেশ পুনর্গঠনের পালা।
‘সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু নয়, আমরা সবাই বাংলাদেশি’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র ও সমাজে বিভিন্ন ধর্ম ও মতের মানুষের সম্মিলনই বৈচিত্র্যময় সমাজের সৌন্দর্য। বর্তমান বিশ্বে ‘সংখ্যালঘু’ বা ‘সংখ্যাগুরু’ পরিচয়কে মুখ্য না করে সবাইকে বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
তিনি বলেন, ‘সংখ্যালঘু’ কিংবা ‘সংখ্যাগুরু’ নয়, সবাই নিজেদের বাংলাদেশি হিসেবে ভাবুন। দল, মত, ধর্ম, বর্ণ ও পরিচয় যেন মানুষের মধ্যে বিভেদ বা বৈষম্য সৃষ্টি না করে। এই উপলব্ধি থেকেই দেশের নাগরিকদের ঐক্যবদ্ধ রাখতে ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সব নাগরিকের গর্বিত পরিচয়—‘আমরা বাংলাদেশি’।
‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’
একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র তার সামর্থ্য অনুযায়ী দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে নাগরিকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে। অন্যদিকে নাগরিকদেরও রাষ্ট্রের প্রতি নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, পারস্পরিক দায়িত্ব, আস্থা ও আলোচনার মাধ্যমেই সবার প্রত্যাশিত কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গড়ে উঠবে। এই রাষ্ট্র ও সমাজে কেউ যাতে পিছিয়ে না থাকে, তা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর।
সার্বভৌমত্ব সুসংহত রেখে সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে নাগরিকদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। এ লক্ষ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্পোর্টস কার্ড এবং বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের সম্মানী ভাতা দেওয়ার মতো উদ্যোগ বাস্তবায়নের কথা তুলে ধরেন তিনি।
শ্রীকৃষ্ণের জন্মতিথি উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়কে শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাবের পর কংসের পতন ঘটে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অনুযায়ী, দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালন ছিল শ্রীকৃষ্ণের অন্যতম ব্রত।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই দেশ আপনার, আমার—আমাদের সবার। নাগরিক হিসেবে এ দেশে সবার অধিকার সমান। নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস ও সংস্কৃতি অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার।’
তিনি বলেন, ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার।’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার।’
আসন্ন দুর্গাপূজাসহ সব ধর্মীয় উৎসব শান্তি, স্বস্তি ও নিরাপদ পরিবেশে পালনের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে হিন্দু সম্প্রদায়কে জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছা এবং দুর্গোৎসবের আগাম শুভেচ্ছা জানান তিনি।
পুরোহিত-সেবাইতদের সম্মানী প্রদান
জন্মাষ্টমী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উদ্যোগে এ শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। গীতা পাঠের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে হিন্দু সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। প্রধানমন্ত্রীও হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়ে পুষ্পস্তবক উপহার দেন।
অনুষ্ঠানে নয়জন পুরোহিত ও সেবাইতের মধ্যে সম্মানী বিতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে সারাদেশের পুরোহিত ও সেবাইতদের ব্যাংক হিসাবে এফটিএর মাধ্যমে এ অর্থ পৌঁছে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভীসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।









