৮ বছরেও শেষ হয়নি নেহালগঞ্জ সেতুর কাজ, ডিসেম্বরে চালুর আশ্বাস

প্রতিনিধির নাম:
  • আপলোডের সময় : Wednesday, September 16, 2026,
৮ বছরেও শেষ হয়নি নেহালগঞ্জ সেতুর কাজ, ডিসেম্বরে চালুর আশ্বাস
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

Ad served by Google দ্বারা বিজ্ঞাপন

আপনার পঠন অভ্যাস এবং সাইটের কনটেন্টের উপর ভিত্তি করে এই বিজ্ঞাপনটি দেখানো হচ্ছে। এটি আমাদের সাইট পরিচালনায় সহায়তা করে।
ধন্যবাদ! আমরা এই বিজ্ঞাপনটি আপনাকে আর দেখাবো না।
৮ বছরেও শেষ হয়নি নেহালগঞ্জ সেতুর কাজ, ডিসেম্বরে চালুর আশ্বাস

৮ বছরেও শেষ হয়নি নেহালগঞ্জ সেতুর কাজ, ডিসেম্বরে চালুর আশ্বাস

মো. হাফিজুর রহমান
বিশেষ প্রতিনিধি (বরিশাল বিভাগ)
আমার সকাল ২৪
বরিশাল

আড়িয়াল খাঁ নদীর ওপর বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার নেহালগঞ্জ সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল প্রায় আট বছর আগে। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে সেতুর মূল অবকাঠামোর বড় অংশ দৃশ্যমান হলেও এখনো বসানো হয়নি প্রয়োজনীয় দুটি স্প্যান। পাশাপাশি দুই প্রান্তের সংযোগ সড়কের কাজও চলমান রয়েছে। ফলে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে সেতুটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালুর সড়ক বিভাগের আশ্বাস বাস্তবে কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

গত শুক্রবার নেহালগঞ্জ সেতু এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর দুই প্রান্তে সংযোগ সড়কের কাজ চলছে। মূল সেতুর অধিকাংশ পিয়ার দৃশ্যমান হলেও দুটি স্প্যান বসানোর কাজ এখনো বাকি। মাঠপর্যায়ে এসব স্প্যান স্থাপনের কাজেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি চোখে পড়েনি। ফলে দুই প্রান্তের সড়ক প্রস্তুতির দিকে এগোলেও পুরো সেতু দিয়ে যানবাহন চলাচলের সুযোগ এখনো তৈরি হয়নি।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

Ad served by Google দ্বারা বিজ্ঞাপন

আপনার পঠন অভ্যাস এবং সাইটের কনটেন্টের উপর ভিত্তি করে এই বিজ্ঞাপনটি দেখানো হচ্ছে। এটি আমাদের সাইট পরিচালনায় সহায়তা করে।
ধন্যবাদ! আমরা এই বিজ্ঞাপনটি আপনাকে আর দেখাবো না।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ অবশ্য ডিসেম্বরের মধ্যে সেতুটি চালুর বিষয়ে আশাবাদী। এর আগে বরিশাল সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পাওয়া গেছে এবং জমির মালিকদের অর্থ বুঝিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে সেতুটি হস্তান্তর করে যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছিলেন তিনি।

তবে মাঠের বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে হলে বাকি থাকা দুটি স্প্যান স্থাপন, সেতুর আনুষঙ্গিক কাজ এবং সংযোগ সড়কের অসমাপ্ত কাজ দ্রুত শেষ করতে হবে। এসব কাজের কোনো একটিতে আবার বিলম্ব হলে ডিসেম্বরের লক্ষ্যও পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

Ad served by Google দ্বারা বিজ্ঞাপন

আপনার পঠন অভ্যাস এবং সাইটের কনটেন্টের উপর ভিত্তি করে এই বিজ্ঞাপনটি দেখানো হচ্ছে। এটি আমাদের সাইট পরিচালনায় সহায়তা করে।
ধন্যবাদ! আমরা এই বিজ্ঞাপনটি আপনাকে আর দেখাবো না।

নেহালগঞ্জ সেতুর দীর্ঘসূত্রতার শুরু নির্মাণকাজের মাঝপথ থেকেই। সরকারি অর্থায়নে তিন বছর মেয়াদি প্রকল্পটি ২০১৭ সালে অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রাথমিকভাবে প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫৭ কোটি ৬২ লাখ টাকা। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে মাঠপর্যায়ে নির্মাণকাজ শুরু হয়। পরে নকশা, নদীতে নৌযান চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় উচ্চতা এবং জমি অধিগ্রহণ নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়। এসব কারণে একপর্যায়ে প্রায় নয় মাস কাজ বন্ধ ছিল। পরে প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে ৯২ কোটি ৫৩ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

নেহালগঞ্জ ও গোমা-আড়িয়াল খাঁ নদীর ওপর একই সময়ে নেওয়া দুটি সেতু প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিল বরিশাল অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা। প্রায় ৮০০ মিটার দৈর্ঘ্যের দুই সেতুর নির্মাণ ব্যয়ও প্রায় ১০০ কোটি টাকা করে ধরা হয়েছিল। তবে একই সময়ে শুরু হওয়া গোমা সেতুর কাজ শেষ হয়ে যান চলাচল শুরু হলেও নেহালগঞ্জ সেতু এখনো পুরোপুরি প্রস্তুত হয়নি।

নেহালগঞ্জ সেতুর দীর্ঘ বিলম্বের পেছনে নদীর নাব্যতা ও নৌযান চলাচলের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। সেতুর নকশা নিয়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) আপত্তি ওঠার পর নদীর মাঝের অংশের উচ্চতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়। এতে আগের নকশায় পরিবর্তন আনতে হয়। পরবর্তী সময়ে সেতুর নির্দিষ্ট অংশের জন্য নতুন করে স্টিলের স্প্যান নির্মাণ ও স্থাপনের কাজ দেওয়া হয় ‘মেসার্স কনক্রিট স্টিল অ্যান্ড টেকনোলজি’কে। চীন থেকে স্টিলের স্প্যান আমদানিতে বিলম্বও নির্মাণকাজ ধীর হওয়ার অন্যতম কারণ বলে জানা যায়।

ঝিকরগাছায় তরুণদের সামাজিক ও আবেগীয় জীবনদক্ষতা বিষয়ক সেমিনার ঝিকরগাছায় তরুণদের সামাজিক ও আবেগীয় জীবনদক্ষতা বিষয়ক সেমিনার

প্রকল্পটির মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে রয়েছে ‘এম মাহফুজ খান লিমিটেড’। সেতুর বিভিন্ন অংশের কাজ বাস্তবায়নে পৃথক প্রতিষ্ঠানও যুক্ত হয়েছে। ফলে নকশা পরিবর্তন, স্প্যান স্থাপনের জটিলতা, ভূমি অধিগ্রহণ এবং নির্মাণসামগ্রী সংগ্রহ—সব মিলিয়ে নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি।

২০২৫ সালের মার্চে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, নেহালগঞ্জ সেতুর ১৩টি স্প্যানের মধ্যে ১২টির পিয়ারের কাজ প্রায় শেষ হলেও জমি অধিগ্রহণের জটিলতা ও স্প্যান-সংক্রান্ত সমস্যার কারণে প্রকল্পের কাজ আটকে ছিল। তখনও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেতুর কাজ শেষ করা কঠিন বলে জানিয়েছিলেন সড়ক বিভাগের কর্মকর্তারা।

এরপর প্রকল্পের কাজে অগ্রগতি হয়েছে। বর্তমানে সেতুর মূল কাঠামোর অধিকাংশ দৃশ্যমান হলেও দুটি স্প্যান বসানো এবং সংযোগ সড়কের কাজ এখনো বাকি। ফলে পুরো প্রকল্প শেষ হওয়ার চূড়ান্ত চিত্র এখনো স্পষ্ট নয়।

বিশেষ করে বরিশাল সদর উপজেলার পতাং অংশের সংযোগ সড়ক নিয়ে জমি অধিগ্রহণ জটিলতার কথা আগেও জানিয়েছিল সড়ক বিভাগ। অন্যদিকে চন্দ্রমোহন ইউনিয়নের দিকের সংযোগ সড়কের কাজ তুলনামূলকভাবে এগিয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। সরেজমিনে চন্দ্রমোহনের নেহালগঞ্জ অংশে সংযোগ সড়কের মাটি ভরাট ও রোলিংয়ের কাজ শেষ হতে দেখা গেছে। এখন সেখানে পিচ ঢালাই বাকি রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে নেহালগঞ্জ সেতু শুধু একটি অবকাঠামো নয়, দীর্ঘদিনের যোগাযোগ দুর্ভোগ থেকে মুক্তির প্রত্যাশা। সেতুটি চালু হলে বরিশাল থেকে বাউফল, ভোলা, লক্ষ্মীপুর ও দুমকিসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ আরও সহজ হওয়ার কথা। পণ্য পরিবহন, কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের যাতায়াতে সময় ও ব্যয় কমবে বলে আশা স্থানীয়দের।

তবে বছরের পর বছর নির্মাণকাজ চলতে থাকায় সেই প্রত্যাশা এখন অনিশ্চয়তায় পরিণত হয়েছে। একই নদীর ওপর একই সময়ে নেওয়া দুটি সেতুর একটির কাজ শেষ হয়ে যান চলাচল শুরু হলেও অন্যটির কাজ এখনো শেষ না হওয়ায় স্থানীয়দের হতাশা আরও বেড়েছে।

এখন মূল প্রশ্ন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নেহালগঞ্জ সেতু সত্যিই যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া যাবে কি না। সড়ক বিভাগের আশ্বাস বাস্তবায়ন করতে হলে বাকি দুটি স্প্যান দ্রুত স্থাপন, সংযোগ সড়কের অসমাপ্ত কাজ শেষ, ভূমি-সংক্রান্ত জটিলতার নিষ্পত্তি এবং সেতুর নিরাপত্তা ও আনুষঙ্গিক কাজ সম্পন্ন করতে হবে।

আট বছর ধরে অপেক্ষায় থাকা মানুষের কাছে ডিসেম্বর এখন আর কেবল একটি সময়সীমা নয়; এটি দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসানের একটি প্রতিশ্রুতি। মাঠপর্যায়ের কাজের গতি শেষ পর্যন্ত সেই প্রতিশ্রুতিকে বাস্তবে রূপ দেয় কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

শেয়ার করুন:

লেখাটি আপনার কেমন লাগলো?

মন্তব্য করতে সাইন-আপ বা লগইনের প্রয়োজন নেই - সরাসরি আপনার মতামত লিখুন।

একটি মন্তব্য লিখুন

আমার সকাল ২৪  ই – পেপার

এ সংক্রান্ত