
নিউজ ডেস্ক, আমার সকাল ২৪ ।
বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দামের স্ত্রী ও শিশু সন্তান মারা যাওয়ার পরও প্যারোলে মুক্তি না পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে ব্যাখা দিয়েছেন বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন।
জেলা প্রশাসক জানান, গত ২৩ জানুয়ারি শুক্রবার তার সরকারি বাসভবনে সাদ্দামের প্যারোলে মুক্তি সংক্রান্ত একটি আবেদন আসে। বিষয়টি অবগত হওয়ার পর তিনি কারা কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে জানান। পরে কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, সাদ্দাম বাগেরহাট জেলার বাইরে অন্য কারাগারে আটক থাকায় ২০১৬ সালের কারা আইন অনুযায়ী বাগেরহাট থেকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া নিয়মবহির্ভূত।
জেলা প্রশাসক বলেন, বিষয়টি আবেদনকারীদের জানানো হলে তারা সন্তোষ প্রকাশ করে চলে যান। এরপর এ বিষয়ে আর কোনো যোগাযোগ হয়নি।
এদিকে সাদ্দামের মামা মো. হেমায়েত উদ্দিন বলেন, বাগেরহাট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর প্যারোলে মুক্তির জন্য লিখিত আবেদন করা হয়েছিল। জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বিষয়টি কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হলে জানানো হয়, প্যারোলে মুক্তির সিদ্ধান্ত প্রদানের এখতিয়ার তাদের নেই এবং যেই কারাগারে বন্দি আছেন সেখানেই আবেদন করতে হবে। পরবর্তীতে যশোর কারাগারের ফটকে মরদেহ নিয়ে গেলে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য দেখার সুযোগ দেওয়া হয়।
গত শুক্রবার দুপুরে বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দামের স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালীর মরদেহ এবং নয় মাস বয়সী শিশু নাজিমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ ও পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি একটি মানসিক সংকট ও পারিবারিক ট্র্যাজেডির ঘটনা। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে শনিবার রাত ১২টার দিকে বাগেরহাটে জানাজা শেষে মা ও সন্তানকে পাশাপাশি দাফন করা হয়।
এর আগে সন্ধ্যায় আত্মীয়স্বজন মরদেহ যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের ফটকে নিয়ে গেলে আনুষ্ঠানিকতা শেষে সাদ্দামকে কয়েক মিনিটের জন্য মরদেহ দেখার সুযোগ দেওয়া হয়। পরে মরদেহ বাগেরহাটে নিয়ে দাফন সম্পন্ন হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় গোপালগঞ্জ থেকে সাদ্দাম গ্রেপ্তার হন। বর্তমানে একাধিক মামলায় তিনি যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন।