
ঝুমুরী আক্তার সন্ধ্যা
শিবচর উপজেলা প্রতিনিধি
মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলা পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁ নদীবেষ্টিত এক উর্বর জনপদ। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মাঠজুড়ে এখন দিগন্তজোড়া সরিষার হলুদ ফুলের সমারোহ। শিশিরভেজা কুয়াশা আর মৌমাছির গুঞ্জনে সরিষা ক্ষেতগুলো হয়ে উঠেছে আরও প্রাণবন্ত। এই মনোরম দৃশ্য দেখে বাম্পার ফলনের আশায় খুশি কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে শিবচর উপজেলায় প্রায় ৪ হাজার ২৫ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ করা হয়েছে। এ মৌসুমে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫ হাজার ৭০৮ মেট্রিক টন, যা গত বছরের তুলনায় বেশি। চলতি বছর বারি-১৪, বারি-১৭, বারি-১৮ ও বিনা-৯ জাতের সরিষার চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে উচ্চ ফলনশীল ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি হওয়ায় বারি-১৪ জাতটি কৃষকদের কাছে বেশি জনপ্রিয়।
কাদিরপুর ইউনিয়নের কৃষক ইকবাল হোসেন বলেন,
“এবার চার-পাঁচ বিঘা জমিতে সরিষার আবাদ করেছি। ফুল ভালো ফুটেছে। তবে কয়েক দিন ধরে ঘন কুয়াশা পড়ছে। কুয়াশার কারণে কিছুটা সমস্যা হতে পারে। তারপরও ঝড়-বৃষ্টি না হলে ভালো ফলনের আশা করছি।”
চরজানাজাত ইউনিয়নের কৃষক দেলোয়ার মোল্লা জানান,
“আমি কয়েক বিঘা জমিতে সরিষার আবাদ করেছি। এখন পর্যন্ত ফলন বেশ ভালো দেখা যাচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার ভালো ফলন ঘরে তুলতে পারব বলে আশা করছি।”
শিবচরের বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, দ্বিতীয় খণ্ড, নিলখী, কুতুবপুর, কাদিরপুর, কাঁঠালবাড়ি, শিরুয়াইল, দত্তপাড়া ও চরজানাজাত ইউনিয়নের চরাঞ্চলের মাঠজুড়ে সরিষার হলুদ ফুলে ছেয়ে গেছে। কৃষকদের মতে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর সরিষার ফলন সন্তোষজনক হবে। পাশাপাশি সরিষা চাষে জমির উর্বরতা বৃদ্ধি পায় এবং পরবর্তী ফসলে সার ও কীটনাশকের ব্যবহার তুলনামূলকভাবে কম লাগে।
শিবচর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রফিকুল ইসলাম বলেন,
“কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। উন্নত জাতের বীজ ও প্রয়োজনীয় সার বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর শিবচরে সরিষার বাম্পার ফলন হবে বলে আমরা আশাবাদী।”