
শাহিন আলম হৃদয়
বিশেষ প্রতিনিধি
জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার ৩ নম্বর গুনারীতলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সরকারি কোনো নিয়োগ বা অনুমোদন ছাড়াই এক বহিরাগত ব্যক্তির মাধ্যমে অনলাইন ভূমি সেবা কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে নির্ধারিত ফি-এর বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়েরও অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সম্প্রতি সরেজমিনে গুনারীতলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গিয়ে দেখা যায়, নায়েবের কক্ষে সরকারি কম্পিউটারে বসে সিহাব নামে এক যুবক অনলাইন ভূমি-সংক্রান্ত বিভিন্ন নথিপত্র ও সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিহাবের বাড়ি জামালপুর সদরে। তিনি নিয়মিত ওই ভূমি অফিসে এসে বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজ করে থাকেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গুনারীতলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে বর্তমানে উপসহকারী কর্মকর্তা আনসার আলী, নায়েব মো. বদরুল রশিদ, অফিস সহায়ক আল মামুন, অফিস সহায়ক হাবিল উদ্দিন এবং পরিচ্ছন্নতা কর্মী মোতালেব হোসেনসহ মোট পাঁচজন সরকারি কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। সরকারি জনবল থাকা সত্ত্বেও একজন বহিরাগত ব্যক্তি কীভাবে সরকারি কম্পিউটার ব্যবহার করে অফিসের কাজ পরিচালনা করছেন—এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সিহাব ওই অফিসের উপসহকারী কর্মকর্তা আনসার আলীর শ্যালক। সেই পরিচয়ের প্রভাব খাটিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে ভূমি অফিসে আসা সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের বিভিন্ন কাজের কথা বলে রসিদ ছাড়াই অর্থ আদায় করে আসছেন। অভিযোগের সমর্থনে স্থানীয়দের কাছে রসিদ ছাড়া এক সেবাগ্রহীতার কাছ থেকে ৪০০ টাকা গ্রহণের একটি ভিডিওচিত্রও রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে নায়েব মো. বদরুল রশিদের সঙ্গে কথা বললে তিনি সাংবাদিকদের জানান, সিহাব সরকারি কোনো নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তি নন এবং আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমেও তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, “আজ থেকে তাকে আর অফিসে আসতে বা কম্পিউটারে বসতে দেওয়া হবে না।”
সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে সিহাব দ্রুত অফিস কক্ষ ত্যাগ করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। পরবর্তীতে তার বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে উপসহকারী কর্মকর্তা আনসার আলীর বক্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলেও তার কাছ থেকে কোনো সুস্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সরকারি কোনো লিখিত অনুমোদন বা নিয়োগ ছাড়াই একজন বহিরাগত ব্যক্তি কীভাবে সরকারি অফিসের কম্পিউটার, নথিপত্র ও অনলাইন ভূমি সেবা পরিচালনার সুযোগ পেলেন, তা খতিয়ে দেখা জরুরি। পাশাপাশি রসিদ ছাড়া অর্থ আদায়ের অভিযোগেরও নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।