সংবিধান সংস্কারে সংসদীয় বিশেষ কমিটির উদ্যোগ প্রত্যাখ্যানের দাবি ১১-দলীয় ঐক্যের
- আপলোডের সময় : Sunday, September 20, 2026,

সংবিধান সংস্কারে সংসদীয় বিশেষ কমিটির উদ্যোগ প্রত্যাখ্যানের দাবি ১১-দলীয় ঐক্যের
ডেস্ক রিপোর্ট
আমার সকাল ২৪
ঢাকা
গণভোটে অনুমোদিত সাংবিধানিক সংস্কার বাস্তবায়নে সংসদে গঠিত বিশেষ কমিটির মাধ্যমে বিকল্প প্রক্রিয়া তৈরির উদ্যোগ প্রত্যাখ্যানের দাবি জানিয়েছে ১১-দলীয় ঐক্য। জোটটির দাবি, গণভোটে অনুমোদিত সংস্কার বাস্তবায়নের কাজ সংবিধান সংস্কার পরিষদের মাধ্যমেই সম্পন্ন করতে হবে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ১১-দলীয় ঐক্যের পক্ষে এ অবস্থান তুলে ধরেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। এর আগে ১৭ সেপ্টেম্বর তিনি জানিয়েছিলেন, সংবিধান সংস্কার নিয়ে জোটের পক্ষ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর সংবাদ সম্মেলন করা হবে।
গোলাম পরওয়ার বলেন, গণভোটে জনগণের দেওয়া রায়কে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মান করা উচিত। তাঁর দাবি, জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে গণভোটে যে সাংবিধানিক সংস্কার অনুমোদিত হয়েছে, তা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। জনগণের রায় উপেক্ষা করে কোনো বিকল্প প্রক্রিয়া গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, গণভোটে জনগণের সার্বভৌম ও গাঠনিক ক্ষমতার যে প্রকাশ ঘটেছে, তার মর্যাদা রক্ষা করতে হবে। সংসদীয় বিশেষ কমিটির মাধ্যমে গণভোটে অনুমোদিত সংস্কার-প্রক্রিয়ার বিকল্প তৈরির উদ্যোগ ১১-দলীয় ঐক্যের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।
গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, একই ব্যক্তিরা সংসদ সদস্য ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হতে পারেন; তবে দুটি প্রতিষ্ঠানের আইনগত পরিচয়, ক্ষমতার উৎস ও কার্যপরিধি এক নয়। তাই নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সংবিধান সংস্কার পরিষদকে কার্যকর করার দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে ১১-দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে ছয় দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো—
১. গণভোটে জনগণের দেওয়া রায় যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।
২. জুলাই জাতীয় সনদে অন্তর্ভুক্ত এবং গণভোটে অনুমোদিত সাংবিধানিক সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে।
৩. গণভোটে অনুমোদিত প্রক্রিয়াকে পাশ কাটিয়ে সংসদীয় বিশেষ কমিটির মাধ্যমে মৌলিক সাংবিধানিক সংস্কার বাস্তবায়নের বর্তমান উদ্যোগ প্রত্যাখ্যান করতে হবে।
৪. নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে নির্ধারিত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পরিষদকে কার্যকর করতে হবে।
৫. জনগণের সম্মতি ও গণভোটের ম্যান্ডেটকে পাশ কাটিয়ে একতরফাভাবে সংবিধানের মৌলিক কাঠামো-সংশ্লিষ্ট পরিবর্তন আনার উদ্যোগ থেকে বিরত থাকতে হবে।
৬. জনগণের প্রত্যাশা, গণভোটের রায় ও রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক সংস্কারের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে হবে।
গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা, জুলাই জাতীয় সনদ এবং গণভোটে প্রকাশিত জনগণের রায়ের প্রতি সম্মান দেখানোই বর্তমান সাংবিধানিক মতপার্থক্য নিরসনের গণতান্ত্রিক পথ। জনগণের ভোট কোনো দলের রাজনৈতিক সুবিধা অনুযায়ী গ্রহণ বা উপেক্ষা করার বিষয় নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার সহসভাপতি রাশেদ প্রধানসহ ১১-দলীয় ঐক্যের নেতারা।



















লেখাটি আপনার কেমন লাগলো?
মন্তব্য করতে সাইন-আপ বা লগইনের প্রয়োজন নেই - সরাসরি আপনার মতামত লিখুন।