
মোঃ মারুফ হোসেন, শেরপুর প্রতিনিধি
শেরপুরে নির্বাচন কমিশনারের এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকরা বাধার মুখে পড়েছেন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে জেলায় কর্মরত সাংবাদিকরা তাৎক্ষণিকভাবে খবর বয়কটের ঘোষণা দেন।
শনিবার (৪ এপ্রিল) সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে শেরপুর-৩ আসনের স্থগিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিজাইডিং অফিসারদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
সভায় অংশ নিতে গেলে সাংবাদিকদের জানানো হয়, তারা আমন্ত্রিত নন। এ সময় জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান সাংবাদিকদের সভাস্থল ত্যাগ করতে বলেন।
এদিকে, সভা শেষে নির্বাচন কমিশনারের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের এড়িয়ে যান বলে অভিযোগ ওঠে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সাংবাদিকরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ত্যাগ করে তাৎক্ষণিকভাবে খবর বয়কটের ঘোষণা দেন।
শেরপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ হাসান বাদল বলেন,
“রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার পক্ষ থেকে আমাদের সংবাদ সংগ্রহের জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছিল। সেই অনুযায়ী আমরা নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হই। কিন্তু সভাকক্ষে সাংবাদিকদের বসার কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি।”
তিনি আরও বলেন,
“বিষয়টি জেলা প্রশাসককে জানালে তিনি বলেন, সাংবাদিকরা এই প্রোগ্রামে আমন্ত্রিত নন এবং প্রোগ্রাম শুরুর আগেই সবাইকে বের হয়ে যেতে বলেন। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ একটি খবর সংগ্রহ করতে না পেরে আমরা মর্মাহত। এটি আমাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা।”
জানা গেছে, সকাল সাড়ে ১০টায় নির্বাচন কমিশনার শেরপুর সার্কিট হাউসে পৌঁছান। পরে সাড়ে ১১টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে তিনি নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, সেনাবাহিনী, আনসার ও গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এরপর দুপুরে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে প্রিজাইডিং অফিসারদের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
এ বিষয়ে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন,
“বিষয়টি অনাকাঙ্ক্ষিত। দ্রুত সময়ের মধ্যে সাংবাদিকদের সঙ্গে বসে এর সমাধান করা হবে।”
তবে এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান-এর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।