
শরিফ আহাম্মেদ, লাকসাম (কুমিল্লা):
কুমিল্লার লাকসাম উপজেলায় এক মাটি কাটার শ্রমিককে হাত-পা বেঁধে মারধরের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়কসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় লাকসাম থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করে ঘটনাটির তদন্ত শুরু হয়েছে।
মামলার বাদী রবিউল হোসেন জানান, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইফতারের পর উপজেলার আতাকরা গ্রাম এলাকায় তাকে পরিকল্পিতভাবে ডেকে নিয়ে মারধর করা হয়। তিনি ওই গ্রামের ছফিউল্লাহর ছেলে এবং পেশায় একজন মাটি কাটার শ্রমিক।
অভিযোগে বলা হয়, রুবেল নামের এক ব্যক্তি মাটি কাটার কাজের কথা বলে তাকে ডেকে একটি বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে নেওয়ার পর তার হাত-পা তার দিয়ে বেঁধে বেধড়ক মারধর করা হয়। এতে তার একটি হাত ভেঙে গেছে বলে দাবি করেন তিনি।
রবিউল হোসেন আরও জানান, গত রমজানে রোজা রেখে তিনি ৩ হাজার ৭০০ টাকার মাটি কাটার কাজ করেছিলেন। কিন্তু সেই টাকা তাকে পরিশোধ করা হয়নি। পরে পাওনা টাকা চাইতে গেলে বিষয়টি নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতার কাছে অভিযোগ করার পর থেকেই তার প্রতি ক্ষোভ তৈরি হয় এবং এর জের ধরে তাকে মারধর করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি বলেন, মামলার উদ্দেশ্য শুধু নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা নয়; বরং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় আনা। এ বিষয়ে তিনি একটি ভিডিও বার্তায় কুমিল্লা-৯ সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য মোঃ আবুল কালামের কাছে বিচার প্রার্থনা করেছেন।
এ ঘটনায় রবিউল হোসেন লাকসাম থানায় মারধর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলায় উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন সবুজ, রুবেলসহ অজ্ঞাতনামা আরও একজনকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৩২৩/৩২৫/৫০৬(২) ধারায় মামলাটি রুজু করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
লাকসাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাকসুদ আহাম্মদ বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে মামলাটি গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে।
তবে অভিযুক্ত উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন সবুজ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, একটি পক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ ছড়াচ্ছে।
এদিকে স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।