রুমমেটদের ব্যক্তিগত ছবি অনুমতি ছাড়া যুক্তরাজ্যপ্রবাসী যুবকের কাছে পাঠানোর অভিযোগ, ইবি ছাত্রীকে ঘিরে তদন্তের আভাস
- আপলোডের সময় : Friday, August 7, 2026,

রুমমেটদের ব্যক্তিগত ছবি অনুমতি ছাড়া যুক্তরাজ্যপ্রবাসী যুবকের কাছে পাঠানোর অভিযোগ, ইবি ছাত্রীকে ঘিরে তদন্তের আভাস
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) জুলাই-৩৬ আবাসিক হলের এক ছাত্রীর বিরুদ্ধে সহপাঠী ও রুমমেটদের ব্যক্তিগত ছবি তাদের অনুমতি ছাড়া যুক্তরাজ্যপ্রবাসী এক যুবকের কাছে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগকারী ও রুমমেটদের দাবি, হলে অবস্থানরত কয়েকজন ছাত্রীর ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি তাদের অনুমতি ছাড়াই ‘আবিদ’ নামে যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত এক যুবকের কাছে পাঠাতেন অভিযুক্ত শিক্ষার্থী। সম্প্রতি ওই যুবকের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্কের অবনতি হলে তিনি ছবিগুলোর কিছু অংশ ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের কাছে পাঠান বলে অভিযোগ উঠেছে। এরপর বিষয়টি জানাজানি হলে হলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত অন্তত ১০ জন শিক্ষার্থীর ছবি শনাক্ত করা হয়েছে। অভিযোগের সমর্থনে তারা কিছু স্ক্রিনশট সংরক্ষণ করেছেন বলেও দাবি করেছেন।
অভিযোগকারী ও ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি দায়ীদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে আরও শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, “যা যা রটানো হচ্ছে, তা অতিরঞ্জিত করে বলা হচ্ছে।”
জুলাই-৩৬ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. শামছুল হক ছিদ্দিকী বলেন, “আমরা এ বিষয়ে জানতে হাউস টিউটরসহ অন্যান্য দায়িত্বশীলদের সঙ্গে কথা বলছি। শিগগিরই এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহিনুজ্জামান বলেন, “আমি রাত ৩টার দিকে বিষয়টি জানতে পেরে হলের প্রভোস্টকে ফোন করি। এরপর রাতেই উপাচার্যকে অবহিত করা হয়। উপাচার্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটিও গঠন হতে পারে।”
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) মধ্যরাত থেকে জুলাই-৩৬ হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। অনেক শিক্ষার্থী হলের ভেতরে নিজেদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন। তারা দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, অভিযোগগুলো এখনো তদন্তাধীন এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এগুলো অভিযোগ হিসেবেই বিবেচিত হবে।










