
স্টাফ রিপোর্টার |
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় রুগ্ণ ও বয়স্ক ঘোড়া জবাই করে গরুর মাংস হিসেবে বাজারে বিক্রির অভিযোগে একটি প্রতারক চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় ৯টি ঘোড়ার মাংস ও একটি জীবিত অসুস্থ ঘোড়া উদ্ধার করা হয়।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার মেনহাজুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
পুলিশ জানায়, গত ৮ এপ্রিল গজারিয়ার আনারপুরা এলাকায় ঘোড়া জবাইয়ের খবর পেয়ে অভিযান চালানো হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্তরা পালিয়ে গেলেও ঘটনাস্থল থেকে ৯টি ঘোড়ার মাংস ও একটি জীবিত রুগ্ণ ঘোড়া উদ্ধার করে প্রাণিসম্পদ বিভাগে হস্তান্তর করা হয়।
পলাতক আসামিদের ধরতে আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় গাজীপুরের টঙ্গী ও বাসন থানা এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—রুবেল (৩৯), সৌরভ (২১), সোহেল গাজী (২১) ও ইয়াছিন আরাফাত (২১)। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার বিকেলে গজারিয়ার আনারপুরা গ্রামের মূলহোতা রাজিব শিকদারকে (৪০) গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা স্বীকার করেছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল, বিশেষ করে যমুনার চরাঞ্চল থেকে কম দামে বয়স্ক ও রোগাক্রান্ত ঘোড়া সংগ্রহ করত। গজারিয়ার নির্জন এলাকায় সেগুলো জবাই করে মাংস ঢাকায় নিয়ে গিয়ে ‘গরুর মাংস’ হিসেবে উচ্চ দামে বিক্রি করা হতো।
পুলিশ সুপার মেনহাজুল ইসলাম বলেন, “তারা দীর্ঘদিন ধরে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিল। চক্রের বাকি সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ফিরোজ কবির ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) হুমায়ুন রশিদসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।