রায়পুরে ২ লাখ টাকার প্রকল্পে ৮০ হাজার টাকা কর্তনের অভিযোগ
- আপলোডের সময় : Tuesday, August 18, 2026,

রায়পুরে ২ লাখ টাকার প্রকল্পে ৮০ হাজার টাকা কর্তনের অভিযোগ
আব্দুল আহাদ, রায়পুর উপজেলা প্রতিনিধি:
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার চরবংশী ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়ন তহবিলের ২ লাখ টাকার একটি প্রকল্পে ৮০ হাজার টাকা কর্তনের অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) আফসার উদ্দিনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ইউপি সদস্যদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগকারী ইউপি সদস্যদের দাবি, প্রকল্পের বরাদ্দ থেকে ৪০ শতাংশ হিসেবে ৮০ হাজার টাকা কেটে রাখা হয়। পরে ইউনিয়ন পরিষদে জরুরি সভা ডাকার পর ২০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়া হলেও বাকি ৬০ হাজার টাকা কোন খাতে ব্যয় হয়েছে, তার সুনির্দিষ্ট হিসাব পাওয়া যায়নি।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়ন তহবিলের আওতায় ২ লাখ টাকা বরাদ্দের একটি প্রকল্পের দায়িত্ব পান ইউপি সদস্য আবুল হাসেম। তাঁর কাছ থেকে ৪০ শতাংশ হারে ৮০ হাজার টাকা কেটে রাখা হয় বলে অভিযোগ। পরে বিষয়টি নিয়ে পরিষদে জরুরি সভা হলে তাঁকে ২০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়া হয়। তবে বাকি ৬০ হাজার টাকার হিসাব চাইলেও প্রশাসনিক কর্মকর্তা তা দিতে পারেননি বলে দাবি করেন তিনি।
একই ধরনের অভিযোগ করেছেন ইউপি সদস্য ফাতেমা বেগম। তাঁর দাবি, ২ লাখ টাকার প্রকল্পের বিপরীতে ‘ভ্যাট’ বাবদ তাঁর কাছ থেকেও ৮০ হাজার টাকা কেটে নেওয়া হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও প্রশ্ন উঠলে তাঁকে ২০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়া হয়।
ইউপি সদস্য আবুল হাসেম বলেন, “প্রকল্পের বরাদ্দ ছিল ২ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৮০ হাজার টাকা কর্তন করা হয়। পরে ২০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়া হলেও বাকি টাকার হিসাব চাইলে আমাকে কোনো হিসাব দেওয়া হয়নি।”
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আফসার উদ্দিন। তিনি বলেন, “মেম্বারদের অভিযোগ সত্য নয়। আমি কোনো টাকা নিইনি। প্রকল্পের লাভের অংশ চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের মধ্যে বণ্টন করে দেওয়া হয়েছে।”
চরবংশী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু জাফর মোহাম্মদ সালেহ বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পের কাজে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ ভ্যাট নির্ধারিত রয়েছে এবং জামানত হিসেবে ৫ শতাংশ সিকিউরিটি মানি দেওয়ার বিধান রয়েছে। তবে প্রকল্পের কাজ পাওয়া সদস্যদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যারা প্রকল্পের কাজ পাননি, তাঁদের মধ্যেও তহবিলের একটি অংশ বণ্টনের সিদ্ধান্ত ছিল।
এদিকে ইউপি সদস্যদের অভিযোগে ‘ভ্যাট’, ‘সিকিউরিটি মানি’ ও ‘লাভের অংশ’ হিসেবে টাকা কর্তনের বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। প্রকল্পের বরাদ্দ থেকে কোন খাতে কত টাকা কর্তন করা হয়েছে এবং তা সরকারি বিধি অনুযায়ী হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান কাউছার বলেন, “অভিযোগের সত্যতা মিললে নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”










