
রামপালে মাছের ঘেরের ওপর পোল্ট্রি খামার, পরিবেশ দূষণে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক | রামপাল (বাগেরহাট) | ১০ জুলাই ২০২৬
বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার সদর ইউনিয়নের প্রফেসারপাড়া এলাকায় একটি মাছের ঘেরের ওপর স্থাপিত বাণিজ্যিক ব্রয়লার (পোল্ট্রি) খামারকে কেন্দ্র করে পরিবেশ দূষণ ও জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, খামার থেকে নির্গত মুরগির বিষ্ঠা, বর্জ্য ও তীব্র দুর্গন্ধের কারণে পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। এতে শিশু, বয়স্ক, গর্ভবতী নারী ও শ্বাসতন্ত্রের রোগীরা সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, খামার থেকে প্রতিদিন মুরগির বিষ্ঠা, মৃত মুরগি ও অন্যান্য বর্জ্য সরাসরি পাশের মাছের ঘেরে ফেলা হচ্ছে। এতে জলাশয়ের পানি দূষিত হওয়ার পাশাপাশি জৈব বর্জ্য পচে অ্যামোনিয়া ও অন্যান্য দুর্গন্ধযুক্ত গ্যাস সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে পুরো এলাকায় অসহনীয় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে এবং স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, ঘরের দরজা-জানালা খুলে রাখা, স্বাভাবিকভাবে খাওয়া-দাওয়া কিংবা শ্বাস নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে। তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এ পরিস্থিতি চললেও কার্যকর কোনো সমাধান হয়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরিকল্পিতভাবে পরিচালিত পোল্ট্রি খামারের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য নানা ধরনের ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। দীর্ঘদিন অ্যামোনিয়া গ্যাসের সংস্পর্শে থাকলে চোখ ও নাকে জ্বালাপোড়া, শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি ও ব্রঙ্কাইটিসের ঝুঁকি বাড়তে পারে। এছাড়া মুরগির বিষ্ঠা ও বর্জ্য সরাসরি জলাশয়ে পড়লে পানির অক্সিজেনের মাত্রা কমে গিয়ে জলজ প্রাণীর ক্ষতি এবং রোগজীবাণুর বিস্তার ঘটতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কারণে মশা-মাছির উপদ্রব বৃদ্ধি, সালমোনেলা, ক্যাম্পাইলোব্যাক্টার ও ই. কোলাইয়ের মতো জীবাণুর বিস্তার, অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী জীবাণু তৈরির ঝুঁকি, মাটি ও ভূগর্ভস্থ পানির দূষণ এবং দীর্ঘস্থায়ী দুর্গন্ধের কারণে মানসিক ও সামাজিক সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে খামারের মালিক নুর ইসলাম শেখের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলা হলেও তিনি কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেননি। তবে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পরিবেশবিদদের মতে, বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ এবং পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা, ২০২৩ অনুযায়ী খামারের বর্জ্য এমনভাবে ব্যবস্থাপনা করতে হবে যাতে পরিবেশ, পানি, মাটি ও জনস্বাস্থ্যের ক্ষতি না হয়। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পারে।
এলাকাবাসী পরিবেশ অধিদপ্তর, উপজেলা প্রশাসন ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই, পরিবেশগত পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
সচেতন মহলের মতে, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে এ সমস্যা আরও বড় পরিবেশগত ও স্বাস্থ্য সংকটে রূপ নিতে পারে।