
আরিফ গজনবী
রামপাল (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
বাগেরহাটের রামপালে সংঘটিত হৃদয়বিদারক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বর–কনেসহ ১৪ জনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার জুমার নামাজের পর মোংলা উপজেলা পরিষদ মাঠে আবদুর রাজ্জাক সরদারের পরিবারের ৯ সদস্যের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় শোকাভিভূত হাজারো মানুষ অংশ নেন। পরে তাদের মরদেহ মোংলা সরকারি কবরস্থানে পাশাপাশি দাফন করা হয়।
জানাজার নামাজে ইমামতি করেন মোংলা ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. রুহুল আমিন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাট–৩ আসনের সংসদ সদস্য ও পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম, বাগেরহাট–২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক (রাহাদ), জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরীসহ প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ।
জানাজার আগে নিহত আবদুর রাজ্জাক সরদারের বড় ছেলে আশরাফুল আলম (জনি) আবেগঘন বক্তব্যে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,
“আমার আর কিছুই রইল না। বাবা, ভাই, বোন, স্ত্রী ও সন্তান—সবাই একসাথে চলে গেল। আপনারা সবাই তাদের জন্য দোয়া করবেন।”
তার এই হৃদয়বিদারক আর্তনাদে উপস্থিত মানুষের চোখে অশ্রু নেমে আসে।
এদিকে একই দুর্ঘটনায় নিহত কনে মার্জিয়া আক্তার (মিতু), তার বোন ও দাদির জানাজা খুলনার কয়রা উপজেলার নকশা গ্রামে অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এছাড়া মাইক্রোবাসচালকের জানাজা রামপালে অনুষ্ঠিত হয়ে তাকে নিজ গ্রামের কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে কয়রা উপজেলার আমাদী ইউনিয়নের নাকসা গ্রামের মার্জিয়া আক্তারের সঙ্গে মোংলা পৌরসভার বাসিন্দা আহাদুর রহমানের বিয়ে হয়। পরদিন নববধূকে নিয়ে বরযাত্রীরা মোংলার উদ্দেশে রওনা দিলে রামপাল উপজেলার বেলাইবিজ এলাকায় নৌবাহিনীর একটি বাসের সঙ্গে মাইক্রোবাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই চালকসহ ১৪ জন নিহত হন।
নিহতদের মধ্যে চারজন শিশু রয়েছে, যাদের মধ্যে দুইজনের বয়স দুই বছরেরও কম। আহত একজন বর্তমানে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম এ ঘটনাকে অত্যন্ত মর্মান্তিক দুর্ঘটনা উল্লেখ করে শোক প্রকাশ করেন এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
নতুন জীবনের সূচনার আনন্দঘন যাত্রা মুহূর্তেই রূপ নেয় এক ভয়াবহ ট্র্যাজেডিতে। একটি পরিবারের হাসি–আনন্দ নিমিষেই পরিণত হয় গভীর শোকের নিস্তব্ধতায়, যার বেদনাময় স্মৃতি দীর্ঘদিন বয়ে বেড়াবে পুরো জনপদ।