রামপালে নদীভাঙনের আগ্রাসন, বিলীন হচ্ছে বসতভিটা-সড়ক; ঝুঁকিতে শতাধিক পরিবার

প্রতিনিধির নাম:
  • আপলোডের সময় : Sunday, September 6, 2026,
রামপালে নদীভাঙনের আগ্রাসন, বিলীন হচ্ছে বসতভিটা-সড়ক; ঝুঁকিতে শতাধিক পরিবার
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

Ad served by Google দ্বারা বিজ্ঞাপন

আপনার পঠন অভ্যাস এবং সাইটের কনটেন্টের উপর ভিত্তি করে এই বিজ্ঞাপনটি দেখানো হচ্ছে। এটি আমাদের সাইট পরিচালনায় সহায়তা করে।
ধন্যবাদ! আমরা এই বিজ্ঞাপনটি আপনাকে আর দেখাবো না।
রামপালে নদীভাঙনের আগ্রাসন, বিলীন হচ্ছে বসতভিটা-সড়ক; ঝুঁকিতে শতাধিক পরিবার

রামপালে নদীভাঙনের আগ্রাসন, বিলীন হচ্ছে বসতভিটা-সড়ক; ঝুঁকিতে শতাধিক পরিবার

চারদিকে অথৈ জল। যে নদীর নোনাজল উপকূলের মানুষের জীবন-জীবিকার অন্যতম উৎস, সেই নদীই এখন কেড়ে নিচ্ছে তাদের শেষ সম্বল। বছরের পর বছর নদীভাঙনে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, রাস্তাঘাট, ধর্মীয় স্থাপনা, গাছপালা, বিদ্যুতের খুঁটি ও পাকা ভবন হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন বাগেরহাটের রামপালের নদীতীরবর্তী এলাকার মানুষ। কেউ আশ্রয় নিয়েছেন সরকারি রাস্তার পাশে, কেউ অন্যের বাড়িতে। আবার অনেকে ভিটেমাটি ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন।

মোংলা-ঘোষিয়াখালী আন্তর্জাতিক নৌ চ্যানেলের তীব্র ভাঙনে ইতোমধ্যে শতাধিক পরিবার বসতভিটা হারিয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি। ঝুঁকিতে রয়েছে আরও দেড় শতাধিক পরিবার। নদীর আগ্রাসন ঠেকাতে কোথাও জিও ব্যাগ, কোথাও পাইলিংয়ের উদ্যোগ নেওয়া হলেও স্থানীয়দের অভিযোগ, স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ না থাকায় প্রতিদিনই নতুন করে ভাঙছে নদীতীর।

ভুক্তভোগী, স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

Ad served by Google দ্বারা বিজ্ঞাপন

আপনার পঠন অভ্যাস এবং সাইটের কনটেন্টের উপর ভিত্তি করে এই বিজ্ঞাপনটি দেখানো হচ্ছে। এটি আমাদের সাইট পরিচালনায় সহায়তা করে।
ধন্যবাদ! আমরা এই বিজ্ঞাপনটি আপনাকে আর দেখাবো না।

বিলীন হচ্ছে বসতভিটা

রামপালের পেড়িখালী ইউনিয়নের রোমজাইপুর এলাকায় নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০টি পরিবারের বসতবাড়ি। সিংগড়বুনিয়ার রামপাল খেয়াঘাটে বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত যাত্রীছাউনিও ইতোমধ্যে নদীতে বিলীন হয়েছে। এতে নৌপথে যাত্রী পারাপার ব্যাহত হচ্ছে।

ওড়াবুনিয়া এলাকায় রামপাল কৃষি অফিস থেকে বগুড়া ব্রিজ পর্যন্ত তীব্র নদীভাঙনে ইতোমধ্যে প্রায় ৪০টি পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়েছে। ঝুঁকিতে রয়েছে আরও ২৫ থেকে ৩০টি পরিবার। একই ভাঙনের মুখে পড়েছে উপজেলা কৃষি অফিস ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

Ad served by Google দ্বারা বিজ্ঞাপন

আপনার পঠন অভ্যাস এবং সাইটের কনটেন্টের উপর ভিত্তি করে এই বিজ্ঞাপনটি দেখানো হচ্ছে। এটি আমাদের সাইট পরিচালনায় সহায়তা করে।
ধন্যবাদ! আমরা এই বিজ্ঞাপনটি আপনাকে আর দেখাবো না।

স্থানীয়দের জন্য ২০২০ সালে ২১ লাখ ৫৫ হাজার ১২৬ টাকা ব্যয়ে ৬২০ মিটার দীর্ঘ একটি বক্স কালভার্ট নির্মাণ করে রামপাল উপজেলা এলজিইডি। তবে নির্মাণের কয়েক বছর না যেতেই তীব্র নদীভাঙনে কালভার্টটির বড় একটি অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।

হুড়কা ইউনিয়নের গোলারডাঙ্গি এলাকায় নদীভাঙনে বসতভিটা হারিয়েছে আরও ১৫ থেকে ২০টি পরিবার। ঝুঁকিতে রয়েছে অন্তত ২০ থেকে ২৫টি পরিবার।

সব মিলিয়ে নদীতে বিলীন হয়েছে প্রায় ৬ থেকে ৭ কিলোমিটার পাকা সড়ক বলে স্থানীয়দের দাবি। ঝুঁকিতে রয়েছে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি, গাছপালা এবং পাকা ও আধাপাকা স্থাপনা। কোথাও কোথাও নদী এতটাই কাছে চলে এসেছে যে সামান্য ভাঙনেই বসতবাড়ি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীগর্ভে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

শিক্ষা-চিকিৎসা ও যোগাযোগে সংকট

তীব্র ভাঙনের কারণে স্কুল, কলেজ ও হাটবাজারে যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনে রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে। জোয়ারের পানির চাপে অনেক এলাকায় সড়ক দিয়ে চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে নৌকাই হয়ে উঠছে মানুষের একমাত্র ভরসা।

স্থানীয়দের ভাষ্য, নদীভাঙন এখন শুধু বসতভিটা হারানোর সংকট নয়; এটি একই সঙ্গে শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি ও যোগাযোগব্যবস্থাকেও সংকটে ফেলছে।

চ্যানেল খনন নিয়ে প্রশ্ন

মোংলা-ঘোষিয়াখালী আন্তর্জাতিক নৌ চ্যানেল সচল করার লক্ষ্যে তৎকালীন সরকার ২০১১-১২ অর্থবছরে কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে খননকাজ শুরু করে। এর উদ্দেশ্য ছিল পরিবেশ সুরক্ষা, মোংলা বন্দর সচল রাখা এবং সুন্দরবন রক্ষা।

বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় পাওয়ার কাপল সাইফ আলী খান এবং করিনা কাপুর খান বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় পাওয়ার কাপল সাইফ আলী খান এবং করিনা কাপুর খান

তবে পরিবেশবাদী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, ডিপিপিতে নির্ধারিত নকশা অনুযায়ী চ্যানেলের আওতাভুক্ত ৮৩টি খাল ও নদী খনন করা হয়নি। এতে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে বিভিন্ন স্থানে তীব্র নদীভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে বলে তাঁদের দাবি।

মোংলা-ঘোষিয়াখালী চ্যানেল রক্ষা সংগ্রাম কমিটির সদস্যসচিব এম. এ. সবুর রানা বলেন, “মোংলা-ঘোষিয়াখালী চ্যানেলটি ২০১১-১২ অর্থবছরে খনন শুরু হয়। তৎকালীন সময়ে চ্যানেলটি ডিপিপির নকশা অনুযায়ী খনন করা হয়নি। পরিবেশ ও নদীবিজ্ঞান গবেষণাকারী প্রতিষ্ঠান সিইজিআইএস দায়সারা গবেষণা রিপোর্ট করে। এতে অপরিকল্পিতভাবে চ্যানেলটি খনন করা হয়। যে কারণে চ্যানেলের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক নদীভাঙন দেখা দিয়েছে।”

তিনি বলেন, “এভাবে ভাঙন অব্যাহত থাকলে আগামী ১০-১৫ বছরের মধ্যে অনেক গ্রাম মানচিত্র থেকে বিলীন হয়ে যাবে। গ্রামগুলো বাঁচাতে পরিকল্পিত গবেষণা করতে হবে। কারণ এই চ্যানেলের স্রোত দ্বিমুখী। গ্রামবাসী ও ফসলি জমি রক্ষা করতে হলে নদীতে টেকসই ব্লক বাঁধ বা বেড়িবাঁধ নির্মাণ প্রয়োজন।”

রামপাল উপজেলা উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট মহিউদ্দিন শেখ বলেন, “বিগত সময়ে নদী খননের পর নদী সচল রাখতে নিয়মিত ড্রেজিং ব্যবস্থাও চলমান রয়েছে। দীর্ঘদিনের নদীভাঙনে বাড়িঘরসহ উর্বর জমি ভেঙে যাচ্ছে। প্রতিকার চেয়ে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। আমাদের দাবি, বাগেরহাট জেলার ৩৪/২ নম্বর ফোল্ডার ওয়াপদা বেড়িবাঁধ বাস্তবায়ন করতে হবে।”

কয়েকটি পয়েন্টে কাজ শুরু

বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জয়ন্ত পাল বলেন, “মোংলা-ঘোষিয়াখালী আন্তর্জাতিক নৌ চ্যানেলের রামপাল অংশে ভাঙনের তীব্রতা তুলনামূলক বেশি। তবে মোংলা অংশেও ভাঙন রয়েছে। বর্তমানে চ্যানেলের পাঁচ-ছয়টি পয়েন্টে ভাঙন চলছে। এরই মধ্যে তিনটি পয়েন্টে কাজ শুরু করা হয়েছে। বড় ভাঙনের স্থানগুলোতে নতুন করে টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।”

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, মোংলা-ঘোষিয়াখালী আন্তর্জাতিক নৌ চ্যানেলের রামপাল অংশের রমজাইপুরসহ বেশ কয়েকটি স্থানে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। তিনি ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

তিনি বলেন, “অনেক গ্রামের অনেকাংশই ভেঙে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। দ্রুত ভাঙন রোধে পাইলিং বাঁধ নির্মাণের কাজ চলছে। তবে চলমান ড্রেজিংয়ের প্রভাবেও ভাঙন হচ্ছে। এছাড়া এটি আন্তর্জাতিক নৌ রুট। এ পথ দিয়ে প্রতিনিয়ত নৌযান বা জাহাজ চলাচল করছে। নৌযানের ঢেউ এবং জোয়ার-ভাটার আঘাতেও ভাঙনের সৃষ্টি হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “পাইলিং বাঁধ করা গেলে এ ভাঙন রোধ করা সম্ভব হবে। ভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে কার্যকর ভূমিকা পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”

পুনর্বাসনের দাবি

ভুক্তভোগীদের কেউ সরকারি রাস্তার পাশে, কেউ অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। কেউ আবার এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন। দীর্ঘদিনের ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিছু নগদ অর্থ, শুকনা খাবার ও ঢেউটিন দেওয়া হলেও তাঁদের দাবি, এসব সহায়তা পুনর্বাসনের জন্য যথেষ্ট নয়।

স্থানীয়দের মতে, জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তবে স্থায়ী সমাধানের জন্য নদীর ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকগুলো নিয়ে বৈজ্ঞানিক সমীক্ষার ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া এবং পরিকল্পিতভাবে নদীর প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন।

তাঁদের দাবি, শুধু রোমজাইপুর বা হুড়কা নয়, পুরো উপকূলীয় রামপালকে রক্ষা করতে হলে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের বিকল্প নেই। তা না হলে নদীভাঙনের আগ্রাসন অব্যাহত থাকলে একের পর এক পরিবার যেমন ভিটেমাটি হারাবে, তেমনি বিস্তীর্ণ জনপদও অস্তিত্বের সংকটে পড়বে।

শেয়ার করুন:

লেখাটি আপনার কেমন লাগলো?

মন্তব্য করতে সাইন-আপ বা লগইনের প্রয়োজন নেই - সরাসরি আপনার মতামত লিখুন।

একটি মন্তব্য লিখুন

আমার সকাল ২৪  ই – পেপার

এ সংক্রান্ত