যুদ্ধের মধ্যে নির্বাচন হলে ইউক্রেন ধ্বংসের ঝুঁকি: জেলেনস্কি
- আপলোডের সময় : Monday, August 24, 2026,

যুদ্ধের মধ্যে নির্বাচন হলে ইউক্রেন ধ্বংসের ঝুঁকি: জেলেনস্কি
যুদ্ধ চলাকালে ইউক্রেনে নির্বাচন আয়োজন করা হলে দেশটি বিভক্ত হয়ে ধ্বংসের ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি বলেছেন, রাশিয়া বিপুলসংখ্যক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মজুত করছে এবং সেপ্টেম্বরের পর আরও তিন লাখ সেনা সমাবেশের প্রস্তুতি নিতে পারে। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।
শনিবার নির্বাচিত কয়েকজন সাংবাদিকের সঙ্গে এক ব্রিফিংয়ে যুদ্ধের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের দাবির বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করেন জেলেনস্কি। ব্রিফিংয়ের বিস্তারিত রোববার (২৩ আগস্ট) প্রকাশ করা হয়।
জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়ার পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতির কোনো আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচন আয়োজনের চিন্তা বাস্তবসম্মত নয়। যুদ্ধের মধ্যে নির্বাচন হলে তা ইউক্রেনের জন্য বড় ধরনের বিভাজন তৈরি করতে পারে।
তবে নিরাপদ, বৈধ ও গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচন আয়োজনের সুনির্দিষ্ট শর্ত নিশ্চিত করা গেলে তিনি নির্বাচনের পক্ষে রয়েছেন বলে জানান জেলেনস্কি। এ ক্ষেত্রে সম্মুখসারিতে থাকা সেনা এবং বিদেশে আশ্রয় নেওয়া লাখো ইউক্রেনীয় নাগরিকের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকিমুক্ত পরিবেশ প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর সামরিক আইন জারি থাকায় ইউক্রেনে নির্বাচন স্থগিত রয়েছে। জেলেনস্কির পাঁচ বছরের প্রেসিডেন্ট মেয়াদ ২০২৪ সালের মে মাসে শেষ হলেও যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি।
সম্প্রতি বরখাস্ত হওয়া সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভ নতুন নির্বাচনের দাবি তোলার পর বিষয়টি আবার আলোচনায় আসে। ফেদোরভের বরখাস্তের বিষয়ে জেলেনস্কি বলেন, তিনি সামরিক বাহিনীর আওতাধীন কিছু দায়িত্ব নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। এ কারণে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
এদিকে জেলেনস্কি দাবি করেছেন, রাশিয়ার হাতে বর্তমানে ৬০০ থেকে ৬৩০টি উচ্চগতির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। শীতের আগে মস্কো প্রতি মাসে আরও ১০০টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে। রাশিয়ার বছরে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৩০০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে ইউক্রেনে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি রয়েছে। শীতকালীন প্রতিরক্ষা পরিকল্পনার জন্য ইউক্রেন ৩০০টি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র চেয়েছে বলে জানান জেলেনস্কি। দেশটির বিমানবাহিনীর প্রয়োজন প্রায় ৩৬০টি।
ফ্রান্সের সঙ্গে চলতি বছর অন্তত একটি সাম্প-টি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে জার্মানির কাছ থেকে ২০২৭-২৮ সালে প্রায় ৬০০টি প্যাট্রিয়ট প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র পাওয়ার বিষয়ে সমঝোতার কথা জানান ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট।
জেলেনস্কি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের মজুত থেকে মাত্র ৫ থেকে ১০ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ইউক্রেনকে দিলে শীতকাল পার করা এবং বেসামরিক মানুষের জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হবে। এ জন্য অর্থ দিতে ইউক্রেন প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে, চলতি বছরের শেষ নাগাদ পূর্বাঞ্চলীয় দোনেৎস্ক প্রদেশের বাকি অংশ দখলে রাশিয়া নতুন করে সামরিক অভিযান জোরদার করতে পারে বলে দাবি করেছেন জেলেনস্কি। তবে কিয়েভ ও স্লোভিয়ানস্কসহ গুরুত্বপূর্ণ শহরসমৃদ্ধ অঞ্চলটি পুরোপুরি দখল করতে মস্কো ব্যর্থ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
জেলেনস্কির দাবি, সেপ্টেম্বরে রাশিয়ার সংসদীয় নির্বাচন শেষ হওয়ার পর মস্কো আরও তিন লাখ সেনা নিয়োগের চেষ্টা করতে পারে। বড় শহরগুলোকে এড়িয়ে দেশের অন্য অঞ্চল থেকে সেনা সংগ্রহ করে সম্মুখসারিতে নতুন গতি আনার চেষ্টা করতে পারে রাশিয়া।











লেখাটি আপনার কেমন লাগলো?
মন্তব্য করতে সাইন-আপ বা লগইনের প্রয়োজন নেই - সরাসরি আপনার মতামত লিখুন।