যুদ্ধের আকাশ থেকে বেসামরিক ককপিটে, নতুন ভূমিকায় অভিনন্দন
- আপলোডের সময় : Thursday, September 3, 2026,

যুদ্ধের আকাশ থেকে বেসামরিক ককপিটে, নতুন ভূমিকায় অভিনন্দন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
পাকিস্তানে যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর আটক হয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসা ভারতীয় বিমানবাহিনীর (আইএএফ) সাবেক ফাইটার পাইলট অভিনন্দন বর্তমান আবারও খবরের শিরোনামে। দীর্ঘ ২২ বছরের সামরিক ক্যারিয়ারের ইতি টেনে এবার বেসামরিক বিমান চলাচলে নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন তিনি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাবেক গ্রুপ ক্যাপ্টেন ও ‘বীর চক্র’ পদকপ্রাপ্ত অভিনন্দন আগস্টে গোয়াভিত্তিক আঞ্চলিক এয়ারলাইন ফ্লাই৯১-এ বাণিজ্যিক পাইলট হিসেবে যোগ দিয়েছেন।
তবে নতুন কর্মজীবন নিয়ে অভিনন্দন নিজে এখনো কোনো বক্তব্য দেননি। ফ্লাই৯১-এর এক মুখপাত্রও কর্মীদের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
২০২৪ সালের মার্চে বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করে ফ্লাই৯১। বর্তমানে এয়ারলাইনটির বহরে ছয়টি উড়োজাহাজ রয়েছে। গোয়া ও হায়দরাবাদে রয়েছে তাদের দুটি ঘাঁটি।
যে ঘটনায় বিশ্বজুড়ে পরিচিতি
২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে জম্মু ও কাশ্মীরের পুলওয়ামায় আত্মঘাতী হামলায় ভারতের ৪০ জন সিআরপিএফ সদস্য নিহত হওয়ার পর পাকিস্তানের বালাকোটে বিমান হামলা চালায় ভারত। নয়াদিল্লির দাবি ছিল, হামলার লক্ষ্য ছিল জইশ-ই-মোহাম্মদের একটি প্রশিক্ষণ শিবির।
এর পরদিন ভারত ও পাকিস্তানের বিমানবাহিনীর মধ্যে আকাশযুদ্ধ হয়। তৎকালীন উইং কমান্ডার অভিনন্দন বর্তমানও ওই সংঘর্ষে অংশ নেন।
ভারতের দাবি অনুযায়ী, আকাশযুদ্ধে তিনি পাকিস্তানি বিমানবাহিনীর একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেন। পরে তার নিজের মিগ-২১ বাইসনও বিধ্বস্ত হলে তিনি পাকিস্তানের ভূখণ্ডে অবতরণ করেন।
পাকিস্তানি বাহিনী তাকে আটক করে তিন দিন পর ১ মার্চ রাতে ভারতের কাছে হস্তান্তর করে। এ ঘটনায় দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়ে ওঠে।
পরে অভিনন্দন বর্তমানকে ভারতের তৃতীয় সর্বোচ্চ যুদ্ধকালীন বীরত্ব পদক ‘বীর চক্র’ দেওয়া হয়। পুরস্কারের সনদে আকাশযুদ্ধে তার দায়িত্ববোধের প্রশংসা করা হয়।
দীর্ঘ ২২ বছরের সামরিক জীবনের পর এবার যুদ্ধবিমানের ককপিট ছেড়ে যাত্রীবাহী বিমানের ককপিটে নতুন দায়িত্ব নিয়েছেন আলোচিত এই সাবেক ফাইটার পাইলট।









