
ইনকিয়াদ আহম্মেদ রাফিন
ঝিকরগাছা উপজেলা প্রতিনিধি
যশোরে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের লক্ষ্যে ‘উত্তম উৎপাদন অনুশীলন (GMP)’ বাস্তবায়নে দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুরু হয়েছে।
সোমবার (৪ মে) সকালে যশোর ক্লাব মিলনায়তনে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের ‘পরিদর্শন, নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয়মূলক কার্যক্রম শক্তিশালীকরণ (STIRC)’ প্রকল্পের আয়োজনে এ কর্মশালার উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন যশোরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইরুফা সুলতানা। তিনি খাদ্য উৎপাদনে নৈতিকতা ও স্বাস্থ্যসম্মত প্রক্রিয়া অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন,
“আমরা আমাদের বাসার রান্নাঘর পরিষ্কার রাখি, খাবার ঢেকে রাখি। কিন্তু হোটেল বা বেকারিতে খাবার কেন আলগা রাখা হয়? এটি দায়িত্বশীলতার ঘাটতি।”
তিনি আরও বলেন, ভেজাল খাদ্য ও অনিয়ম স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে এবং ব্যবসায়ী সমাজকে এ বিষয়ে আরও সচেতন হতে হবে, যাতে পুরো খাতের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, সম্প্রতি যশোরে ভেজাল মধু ও কেশবপুর এলাকায় ভেজাল দুধ তৈরির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া খাদ্যে টেক্সটাইল রঙ ব্যবহারের ফলে জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা আদ্দা আন সিনা বলেন, যশোরের বেকারি শিল্প বৃহৎ পরিসরে পরিচালিত হচ্ছে এবং এখানকার পণ্য পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতেও সরবরাহ হয়। তাই এই খাতের মান নিয়ন্ত্রণে প্রশিক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও জানান, ৩০ জনের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও বেকারি মালিকদের আগ্রহে প্রায় ৪০ জন প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছেন। তাত্ত্বিক আলোচনার পাশাপাশি একটি বেকারিতে গিয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
জাইকা–STIRC প্রকল্পের ন্যাশনাল প্রোগ্রামার মোহাম্মদ মাসুদ আলম বলেন, ভোক্তার টেবিল পর্যন্ত খাদ্য সরবরাহ শৃঙ্খলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও জাইকা যৌথভাবে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পকে নিরাপদ করতে কাজ করছে।