
মেয়ের শ্বশুরবাড়ির লোকজনের মারধরে বাবার মৃত্যু, আটক ৩
কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় মেয়ের শ্বশুরবাড়ির লোকজনের মারধরে আবুল বাশার (৫০) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দিবাগত রাতে উপজেলার দুলালপুর ইউনিয়নের নাল্লা গ্রামের উত্তরপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
আটকরা হলেন— দেবিদ্বার উপজেলার জাফরগঞ্জ ইউনিয়নের রঘুরামপুর গ্রামের আব্দুল মতিন, তার স্ত্রী রোজিনা বেগম এবং তাদের আত্মীয় মো. হৃদয়।
নিহত আবুল বাশার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার দুলালপুর ইউনিয়নের নাল্লা গ্রামের উত্তরপাড়ার মৃত চেরাগ আলীর ছেলে। তিনি পেশায় দিনমজুর ছিলেন।
স্থানীয় ও স্বজনদের অভিযোগ, মেয়ের শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে দাওয়াতে যাওয়া-না যাওয়া নিয়ে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে আবুল বাশারকে মারধর করা হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
স্বজনরা জানান, আবুল বাশারের অন্তঃসত্ত্বা মেয়ে ময়না আক্তারের গর্ভধারণের পাঁচ মাস পূর্তি উপলক্ষে আগামী শুক্রবার একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। এ উপলক্ষে মেয়ের শ্বশুর আব্দুল মতিন, শাশুড়ি রোজিনা বেগম ও ননদের জামাই মো. হৃদয় দাওয়াত দিতে এসেছিলেন। তবে একই দিনে ভাতিজার বিয়ে থাকায় আবুল বাশার ওই অনুষ্ঠানে যেতে পারবেন না বলে জানান। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
অভিযোগ রয়েছে, একপর্যায়ে আব্দুল মতিন আবুল বাশারের গলা চেপে ধরে বুকে ঘুষি মেরে তাকে মাটিতে ফেলে দেন। পরে রোজিনা বেগম ও মো. হৃদয়ও তাকে মারধর করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
ঘটনার পর স্থানীয়রা অভিযুক্ত তিনজনকে আটক করে গণপিটুনি দেন। খবর পেয়ে ব্রাহ্মণপাড়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং তাদের হেফাজতে নেয়।
নিহতের স্ত্রী ঝর্না বেগম অভিযোগ করেন, প্রায় এক বছর আগে সামাজিক ও ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী তাদের মেয়ে ময়না আক্তারের সঙ্গে আব্দুল মতিনের ছেলে মহিউদ্দিনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে যৌতুকের দাবিতে মেয়েকে নির্যাতন করা হতো বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক হোসেন জানান, পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের মেয়ের শ্বশুর, শাশুড়ি ও ননদের জামাইকে আটক করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে।