
মেরিনোর জাদুতে বেলজিয়ামকে বিদায়, ফ্রান্সের মুখোমুখি স্পেন
স্পেনের জন্য প্রয়োজনের মুহূর্তে আবারও ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হলেন মিকেল মেরিনো। পর্তুগালের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তের জয়সূচক গোলের পর এবার বেলজিয়ামের বিপক্ষেও বদলি নেমে ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিলেন এই স্প্যানিশ মিডফিল্ডার। তার ৮৮তম মিনিটের গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে লা রোজারা।
লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত রোমাঞ্চকর কোয়ার্টার ফাইনালে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে দুই দল। তবে শেষ হাসি হেসেছে স্পেন। মূল স্ট্রাইকার মিকেল ওইয়ারসাবালকে তুলে ৮৫তম মিনিটে মেরিনোকে মাঠে নামান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। মাঠে নামার মাত্র তিন মিনিট পরই ম্যাচের জয়সূচক গোল করে দলের নায়ক বনে যান তিনি।
৮৮তম মিনিটে পাউ কুবারসির শট বেলজিয়ামের গোলরক্ষক সেনে লামেন্স পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিতে ব্যর্থ হলে ফিরতি বলে সুযোগ পান মেরিনো। নিখুঁত ফিনিশে বল জালে জড়িয়ে স্পেনকে সেমিফাইনালের টিকিট এনে দেন তিনি।
চলতি বিশ্বকাপে মেরিনোকে নতুন ভূমিকায় ব্যবহার করছেন স্পেন কোচ। প্রথাগত মিডফিল্ডের বদলে ম্যাচের শেষ দিকে তাকে ‘মেকশিফট নাম্বার নাইন’ হিসেবে খেলানো হচ্ছে। সেই কৌশল দারুণ সফল হয়েছে। গ্রুপ পর্ব থেকে শুরু করে নকআউট—প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই বদলি হিসেবে নেমে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন তিনি। পর্তুগালের বিপক্ষে রাউন্ড অব সিক্সটিনে যোগ করা সময়ে জয়সূচক গোল করার পর এবার বেলজিয়ামের বিপক্ষেও একই কীর্তি গড়লেন।
পরপর দুই নকআউট ম্যাচে বদলি হিসেবে নেমে জয়সূচক গোল করে বিশ্বকাপের ইতিহাসে বিরল এক নজির স্থাপন করেছেন মেরিনো। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে গোল করার অসাধারণ দক্ষতায় তিনি এখন স্পেনের অন্যতম নির্ভরতার নাম।
তবে বেলজিয়ামের জন্য সবচেয়ে বড় ধাক্কা আসে গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়ার চোটে। ম্যাচের ৭২তম মিনিটে হাঁটুর চোট নিয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন বিশ্বের অন্যতম সেরা এই গোলরক্ষক। মাঠ ছাড়ার সময় তাকে আবেগাপ্লুত অবস্থায় দেখা যায়। তার বদলি হিসেবে নামেন সেনে লামেন্স, যার একটি ভুলই শেষ পর্যন্ত বেলজিয়ামের বিদায়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
এর আগে ম্যাচের ৩০তম মিনিটে ফাবিয়ান রুইজের গোলে এগিয়ে যায় স্পেন। দানি ওলমোর শট কোর্তোয়া ঠেকিয়ে দিলেও ফিরতি বলে রুইজের শট ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে জালে জড়িয়ে যায়।
৪১তম মিনিটে টিমোথি কাস্তানিয়ের ক্রস থেকে চার্লস ডি কেটেলারের দুর্দান্ত হেডে সমতায় ফেরে বেলজিয়াম। এই গোলেই চলতি বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো স্পেনের রক্ষণ ভাঙে। এর আগে টানা ৬০০ মিনিটেরও বেশি সময় গোল হজম করেনি লা রোজারা।
দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলই জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে আক্রমণ চালায়। স্পেনের তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল পুরো ম্যাচজুড়ে বেলজিয়ামের রক্ষণকে ব্যস্ত রাখলেও গোলের দেখা পাননি। তবে আক্রমণে তার গতিময়তা স্পেনের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এদিকে, পর্তুগালের বিপক্ষে একাদশে না থাকা ফাবিয়ান রুইজকে শুরু থেকেই খেলানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। গোল করে সেই আস্থার প্রতিদানও দিয়েছেন রুইজ।
অন্যদিকে, ইউরি তিয়েলেম্যান্সের অনুপস্থিতি বেলজিয়ামের মাঝমাঠে বড় প্রভাব ফেলেছে। ওয়ার্ম-আপের সময় চোট পাওয়ায় তিনি মাঠে নামতে পারেননি। ফলে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ হারায় বেলজিয়াম, আর নিজের সেরা ছন্দে দেখা যায়নি কেভিন ডি ব্রুইনাকেও।
এই হারের মধ্য দিয়ে আবারও অপূর্ণ থেকে গেল বেলজিয়ামের সোনালি প্রজন্মের বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন। থিবো কোর্তোয়া, কেভিন ডি ব্রুইনা, রোমেলু লুকাকু ও অ্যাক্সেল উইটসেলদের জন্য এটি শেষ বিশ্বকাপও হতে পারে।
অন্যদিকে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা স্পেন এখন সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে ফ্রান্সের। ইউরোপের দুই ফুটবল পরাশক্তির এই লড়াই ঘিরে বিশ্বকাপের শেষ চার এখন আরও জমে উঠেছে।