মাসুদ আজহারের পুরস্কার বাড়ানোকে ‘ভাঁওতাবাজি’ বলল ভারত
- আপলোডের সময় : Wednesday, September 16, 2026,

মাসুদ আজহারের পুরস্কার বাড়ানোকে ‘ভাঁওতাবাজি’ বলল ভারত
নিজস্ব প্রতিবেদক
আমার সকাল ২৪
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
জইশ-ই-মুহাম্মদের (জেইএম) প্রতিষ্ঠাতা মাসুদ আজহারকে গ্রেপ্তারে সহায়ক তথ্যের জন্য পুরস্কারের অর্থ বাড়ানোর পাকিস্তানের সিদ্ধান্তকে ‘ভাঁওতাবাজি’ ও ‘লোক দেখানো’ পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেছে ভারত। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পাকিস্তানকে ঘোষণার পরিবর্তে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
নয়াদিল্লিতে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, পাকিস্তানের এ ধরনের ঘোষণা নতুন নয়। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পরিবর্তে শুধু ঘোষণা দেওয়ার কোনো গুরুত্ব নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এর আগে সোমবার পাকিস্তানের ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এফআইএ) মাসুদ আজহারকে গ্রেপ্তারে সহায়ক তথ্যের পুরস্কার ২০ লাখ পাকিস্তানি রুপি বাড়িয়ে ৭০ লাখ রুপি করেছে। একই সঙ্গে তাকে এফআইএর নতুন ‘রেড বুক’-এ পলাতক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
আগামী অক্টোবরে ফিন্যান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্সের (এফএটিএফ) পূর্ণাঙ্গ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এ বৈঠকের আগে পাকিস্তানের এই পদক্ষেপকে দেশটির ওপর আন্তর্জাতিক নজরদারি এড়ানোর প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন কিছু ভারতীয় সূত্র ও বিশ্লেষক। তবে এটি পাকিস্তানের আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত উদ্দেশ্য নয়।
সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন ও অর্থ পাচার ঠেকাতে ব্যর্থতার কারণে পাকিস্তান ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত এফএটিএফের গ্রে লিস্টে ছিল।
পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ ২০২১ সাল থেকে দাবি করে আসছে, মাসুদ আজহার দেশ ছেড়ে আফগানিস্তানে পালিয়ে গেছেন। তবে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার তার আফগানিস্তানে অবস্থানের বিষয়ে পাকিস্তানের দাবির সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভারতে একাধিক সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় মাসুদ আজহারকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০০১ সালের ভারতীয় সংসদে হামলা, ২০১৬ সালের পাঠানকোট বিমানঘাঁটিতে হামলা এবং ২০১৯ সালের পুলওয়ামা হামলার অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে পাকিস্তানের এফআইএর সর্বশেষ ‘রেড বুক’-এ মোট ১ হাজার ৮০৪ জন পলাতক সন্ত্রাসীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২১ সালের তালিকায় এ সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৩৩০।
নতুন তালিকায় ২০০৮ সালের মুম্বাই হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে পাকিস্তানি তদন্তকারীদের শনাক্ত করা কয়েকজনের নামও রয়েছে। ওই হামলায় ১৬৬ জন নিহত হন। তালিকায় হামলার পরিকল্পনা, অর্থায়ন কিংবা হামলাকারীদের ভারতে পৌঁছানোর কাজে সহায়তার অভিযোগে ১৯ জনের নাম রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে নতুন তালিকায় কয়েকজনের আগের ছবিসহ বিস্তারিত পরিচয় ও লস্কর-ই-তৈয়বার (এলইটি) সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার তথ্য বাদ দেওয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।



















লেখাটি আপনার কেমন লাগলো?
মন্তব্য করতে সাইন-আপ বা লগইনের প্রয়োজন নেই - সরাসরি আপনার মতামত লিখুন।