মঠবাড়িয়ায় হামের প্রাদুর্ভাব, প্রতিদিন ভর্তি ৮–৯ রোগী
- আপলোডের সময় : Tuesday, September 22, 2026,

মঠবাড়িয়ায় হামের প্রাদুর্ভাব, প্রতিদিন ভর্তি ৮–৯ রোগী
স্টাফ রিপোর্টার | মোঃ নাইম
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন গড়ে ৮ থেকে ৯ জন হামে আক্রান্ত রোগী ভর্তি হচ্ছেন। রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় সীমিত অবকাঠামোর মধ্যে চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা।
এদিকে ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার নির্মাণকাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। অর্থসংকট ও প্রশাসনিক জটিলতায় আটকে থাকা এ প্রকল্পের কারণে হাসপাতালের স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবাও ব্যাহত হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ৩১ কোটি ৪৬ লাখ টাকা ব্যয়ে হাসপাতালটির সম্প্রসারণ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। ২০২৪ সালের জুনের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত মাত্র ৫৬ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
নতুন ভবন নির্মাণের জন্য পুরোনো হাসপাতাল ভবন ও অন্যান্য স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়েছে। বর্তমানে একটি পুরোনো কোয়ার্টারে সীমিত পরিসরে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় হাসপাতালটিতে চিকিৎসাসেবার ওপর নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, প্রতিদিন গড়ে ৮ থেকে ৯ জন হামে আক্রান্ত রোগী ভর্তি হচ্ছেন। হামের রোগীদের পাশাপাশি অন্যান্য রোগে আক্রান্ত রোগীরাও জায়গা সংকটে ভোগান্তিতে পড়ছেন। পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় রোগীদের ভর্তি রেখে চিকিৎসাসেবা দেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে।
মঠবাড়িয়ার পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকা থেকেও রোগীরা এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসেন। ফলে সীমিত জায়গায় রোগীর বাড়তি চাপ সামাল দিতে গিয়ে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সৌমিত্র সিংহ রায় বলেন, হাসপাতালের অবকাঠামোগত সংকটের কারণে চিকিৎসাসেবা দিতে নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। হামে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার পাশাপাশি অন্যান্য রোগীদের সেবাও নিশ্চিত করতে হচ্ছে।
তিনি হামের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেন।
হামের সাধারণ লক্ষণের মধ্যে রয়েছে জ্বর, চোখ লাল হয়ে যাওয়া, নাক দিয়ে পানি পড়া এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ি।
হামে আক্রান্ত শিশুকে অন্য শিশুদের থেকে দূরে রাখা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশে রাখা এবং নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী হামসহ প্রয়োজনীয় টিকা সম্পন্ন হয়েছে কি না তা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত কোনো গুজবে কান না দিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও চিকিৎসকদের কাছ থেকে সঠিক তথ্য নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রয়োজন হলে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।



















লেখাটি আপনার কেমন লাগলো?
মন্তব্য করতে সাইন-আপ বা লগইনের প্রয়োজন নেই - সরাসরি আপনার মতামত লিখুন।