
মো. নাজমুল হক নয়ন
স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল
ভোলা জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের অধীনে পরিচালিত কম্পিউটার বেসিক প্রশিক্ষণ কোর্সের প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। কয়েকজন আবেদনকারী অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় তারা বঞ্চিত হয়েছেন এবং চূড়ান্ত তালিকায় একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রার্থীর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি।
সম্প্রতি জেলা সমাজসেবা কার্যালয় বিনামূল্যে কম্পিউটার বেসিক প্রশিক্ষণ কোর্সের জন্য নির্বাচিত প্রশিক্ষণার্থীদের তালিকা প্রকাশ করে। তালিকা প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে বিভিন্ন ধরনের আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়।
কয়েকজন আবেদনকারীর দাবি, তারা নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করেও নির্বাচিত হননি। তাদের অভিযোগ, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয়নি এবং চূড়ান্ত তালিকায় একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রার্থীর সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেশি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আবেদনকারী বলেন,
“আমরা সব শর্ত পূরণ করেও নির্বাচিত হইনি। নির্বাচনী প্রক্রিয়াটি আরও স্বচ্ছ হওয়া প্রয়োজন ছিল। বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা উচিত।”
এ বিষয়ে জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রজত শুভ্র সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “যোগ্যতা, নির্ধারিত নীতিমালা এবং নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচন করা হয়েছে। এখানে কোনো ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।”
জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার দাবি, নির্বাচন সম্পূর্ণভাবে নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী সম্পন্ন হয়েছে এবং কোনো প্রকার বৈষম্যের অভিযোগের ভিত্তি নেই।
তবে অভিযোগকারী আবেদনকারীরা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, সরকারি প্রশিক্ষণ ও সেবামূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে ধর্ম, বর্ণ বা অন্য কোনো পরিচয়ের পরিবর্তে যোগ্যতা ও নির্ধারিত নীতিমালাই একমাত্র বিবেচ্য হওয়া উচিত।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা সিদ্ধান্ত পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।