ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ন্যায্যমূল্যের বাইরে জ্বালানি বিক্রির অভিযোগ, ক্ষোভে ফুঁসছে ভুক্তভোগীরা
মস্ত মিয়া
বিশেষ প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ভাদুঘর এলাকায় অবস্থিত এস রহমান ফিলিং স্টেশন-কে ঘিরে ন্যায্যমূল্যের বাইরে জ্বালানি বিক্রি, অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, নির্ধারিত সরকারি মূল্যে জ্বালানি না দিয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের মাধ্যমে গোপনে জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে, ফলে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন।
অভিযোগ রয়েছে, প্রতিদিন ভোর ৬টা থেকে সকাল ১১টা পর্যন্ত দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করেও অনেক ক্রেতা জ্বালানি পান না। অথচ যারা নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি টাকা দিতে রাজি হচ্ছেন, তাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত পেট্রোল বা ডিজেল দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
এছাড়া দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকরাও বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রেস লেখা থাকা গাড়িগুলোকেও পূর্ণ পরিমাণে জ্বালানি দেওয়া হচ্ছে না এবং অনেক ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের লাইনে দাঁড়াতে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। এতে গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ফিলিং স্টেশনটির কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী সিন্ডিকেট গড়ে তুলে নিয়মিত অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন। রুক মিয়া ও শাহ আলম মিয়াসহ কয়েকজনের নাম স্থানীয়দের মুখে শোনা যাচ্ছে, যারা এ ঘুষ বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগী গাড়িচালক ও মোটরসাইকেল আরোহীরা জানান, জরুরি প্রয়োজনে জ্বালানি নিতে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও তারা খালি হাতে ফিরছেন। অনেকেই বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে জ্বালানি নিচ্ছেন, এতে সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার অভিযোগ করা হলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে করে অনিয়ম দিন দিন বেড়েই চলেছে বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।
এ অবস্থায় ভুক্তভোগীরা জেলা প্রশাসক, পুলিশ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা ঘটনাটি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ফিলিং স্টেশনের লাইসেন্স বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।
সচেতন মহলের মতে, এ ধরনের অনিয়ম ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘনের পাশাপাশি গণমাধ্যমের কাজেও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। জনস্বার্থে স্বচ্ছ জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি উঠেছে।